Aaj India Desk, কলকাতা : প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করার পর সাধারণ মানুষের কাছে সেই পরিষেবাগুলি পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার শুরু করে জনকল্যাণ শিবির (Janakalyan Camp)। সরকারের দাবি ছিল, এই শিবিরগুলিতে এসে নাগরিকরা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন, ফর্ম পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি সহায়তা পাবেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শিবিরগুলিতে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি ভিড় হওয়ায় কর্মসূচির মেয়াদ আরও একদিন বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্তু এর মধ্যেই ধরা পড়ল সাধারণ মানুষের অসন্তোষ। এই শিবিরে গিয়েও একাধিক পরিষেবা না পাওয়া, অনলাইন ও অফলাইন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি এবং সরকারি কর্মীদের সহযোগিতার অভাবের অভিযোগ তুলেছেন বহু মানুষ।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর সোনারপুর এলাকায় জনকল্যাণ শিবিরে (Janakalyan Camp) উপস্থিত মানুষদের দাবি, শিবিরে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, অথচ এরপর বিভিন্ন প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, “শিবিরে এসে বলা হচ্ছে কাজ অনলাইনে করতে হবে। অথচ বাইরে গেলে আবার ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন।”
অভিযোগকারীদের দাবি, ‘শ্রম কার্ড’ এবং ‘কৃষিবন্ধু’-র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য অনেক জনকল্যাণ শিবিরে (Janakalyan Camp) নির্দিষ্ট কাউন্টার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী নেই। এছাড়া পিএম কিষাণ যোজনার আবেদন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে পুরনো নথি চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেকের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা তাঁদের পক্ষে সহজ নয়।
শিবিরে আসা মানুষের একাংশের দাবি, যাঁরা ডিজিটাল প্রক্রিয়া সম্পর্কে ততটা অভিজ্ঞ নন, তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নেই। ফর্ম পূরণ, নথি আপলোড বা আবেদন প্রক্রিয়া বোঝানোর জন্য কার্যকর হেল্প ডেস্কের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। ফলে বহু মানুষ বারবার শিবিরে ঘুরেও সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন না।
কিছু উপভোক্তা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পরিষেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে তাঁদের দাবি। এই পরিস্থিতিতে অনেকের প্রশ্ন, যদি প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও সঠিক দিকনির্দেশনা না মেলে, তাহলে জনকল্যাণ শিবিরের উদ্দেশ্য কতটা সফল হচ্ছে। তবে শিবিরের অভিজ্ঞতা নিয়ে সকলের মত এক নয়। অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনা, যুবশক্তি-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে সফলভাবে আবেদন করেছেন।
জনকল্যাণ শিবিরকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে এখন মূল প্রশ্ন, অভিযোগগুলির সমাধান করে পরিষেবাকে আরও সহজ ও কার্যকর করা যায় কি না। কারণ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য সফল করতে হলে এই সমস্যাগুলির সমাধানই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই শিবিরের মাত্র একদিন বাকি থাকায় সেই আস্থা হারিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এবার প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেয় সেটাই দেখার।


