Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর অন্দরেও একের পর এক পরিবর্তন চোখে পড়ছে। দলের বহু পুরনো নেতা-কর্মী ইতিমধ্যেই দূরত্ব তৈরি করেছেন। কেউ দল ছেড়েছেন, কেউ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, আবার কেউ নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল বলে দাবি করছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন মামলায় দলের একাধিক নেতা তদন্তের মুখে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আরও একটি বড় ধাক্কার মুখে পড়ল তৃণমূল।
এক সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন ব্যবসায়ী মনোতোষ সাহা (Monotosh Saha), যিনি মন্টু সাহা নামেই বেশি পরিচিত। গত মে মাসে তিনি মেট্রোপলিটন এলাকায় নিজের বাড়িতে থাকা তৃণমূলের অস্থায়ী পার্টি অফিস খালি করার নোটিশ দেন। দলকে দু’মাস সময়ও দেওয়া হয়েছিল। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়ির একটি অংশে দলের সাংগঠনিক কাজ চলত। পাশাপাশি, তৃণমূলের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ডেকোরেটিংয়ের সমস্ত দায়িত্বও সামলাতেন মন্টু সাহা। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তিনি সেই কাজও বন্ধ করে দেন। তখন থেকেই তাঁর সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়ার জল্পনা শুরু হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনাই সত্যি হল। মঙ্গলবার রাতে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইপাস ধাবার পিছনে থাকা ওই ভবনের দু’টি তলা সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। খুব শীঘ্রই বাকি অংশ থেকেও দলীয় সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। এই ভবনটি তৃণমূলের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। তপসিয়ার পুরনো তৃণমূল ভবন ভেঙে নতুন আধুনিক কার্যালয় তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সাময়িকভাবে অন্য জায়গা থেকে দলীয় কাজ চালানো হচ্ছিল। সেই সময়ই মন্টু সাহার এই বহুতল ভবনটি ব্যবহার করা শুরু হয়।
দক্ষিণ কলকাতায় ছোট একটি ডেকোরেটিং ব্যবসা দিয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন মন্টু সাহা। পরে দ্রুত তাঁর ব্যবসার বিস্তার ঘটে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, তাঁর এই উত্থানের পিছনে তৎকালীন শাসকদলের প্রভাব ছিল। যদিও এই বিষয়ে মন্টু সাহা এখনও পর্যন্ত কোনও প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি।


