Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল (TMC)-এর প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee)-কে ঘিরে ফের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন লোকসভা (Loksabha)-য় তৃণমূলের দলনেতার দায়িত্ব সামলানোর পর অসুস্থতার কারণে সেই পদ থেকে তাঁকে সরানো হয়। অতীতে তাঁকে নিয়ে দলের ভিতরে নানা বিতর্ক হয়েছে, এমনকি তাঁর জন্য অনেক নেতা দল ছেড়েছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবুও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও প্রকাশ্যে তাঁর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেননি।কিন্তু এবার প্রশ্ন উঠছে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কি এনডিএ শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন? সম্প্রতি শতাব্দী রায়ের সঙ্গে তাঁকে দেখা যাওয়ার পর থেকেই এই জল্পনা আরও বেড়েছে। কিন্তু কেন এমনটা করবেন সুদীপ?
এই প্রসঙ্গে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সুদীপ দা যদি রোজভ্যালি-কাণ্ডে ইডি-র মামলা থেকে অব্যাহতি চান, তাহলে সুবিধা হবে, তাই হয়তো গিয়েছেন। ওঁর তো এমন একটা অভ্যাস আছে। আগে কংগ্রেসে গিয়েছিলেন, পরে আবার তৃণমূলে ফিরেছেন। তারপরও মমতা দি ওঁকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছে।” কল্যাণ আরও বলেন, “সুদীপ দা কিছুদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নতুন একটি গাড়ি চেয়েছিলেন। কারণ দিল্লিতে তাঁর ব্যবহৃত গাড়িটি প্রায় ১৭ বছরের পুরনো। কিন্তু মমতা দি বলেন, এখন নতুন গাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। দলের পুরনো গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন। তাই উনি ঠিক কী কারণে গিয়েছেন, সেটা বলা কঠিন।”
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রোজভ্যালি মামলায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আইনি সমস্যার মধ্যে ছিলেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল দল। “সুদীপ দার জন্য দলের অনেক টাকা খরচ হয়েছে,” বলেও মন্তব্য করেন কল্যাণ। অন্যদিকে, দমদমের সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “কয়েকদিন আগেই সুদীপের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। তখন ও বলেছিল, আমি কোথাও যাচ্ছি না। যদি যাই, তাহলে তোমাদের জানাব। কিন্তু আজ শতাব্দীর সঙ্গে একই গাড়িতে দেখা গেল। এটা মানুষের নৈতিকতার ব্যাপার।”
ফলে এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সত্যিই কি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে এগোচ্ছেন, নাকি এই সবই কেবল জল্পনা? সেই উত্তর আপাতত সময়ই দেবে।


