কলকাতা: তল্লাশির পর প্রথমবার মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। আর্থিক তছরুপ মামলার অভিযুক্ত তাঁর ঘনিষ্ঠ সহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে শনিবার গভীর রাত থেকে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। প্রায় ঘন্টা তল্লাশি শেষে সকাল ৮ টায় অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবন থেকে বেরোয় শালবনি থানার পুলিশ, কালীঘাট থানার পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশের হাই-ভোল্টেজ অভিযানের পর প্রথমবার মুখ খুললেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক (Abhishek Banerjee)। আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে কি বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে তদন্তকারীদের কোর্টেই বল ঠেকলেন অভিষেক। তাঁর (Abhishek Banerjee) জবাব, “আমি তদন্তকারী সংস্থা নই। তারা তল্লাশি চালিয়ে গিয়েছে, উত্তর তারাই দেবে।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাঁর পুরো বাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে। ফলে কেউ লুকিয়ে ছিল কি না, সেই বিষয়ে মন্তব্য করার পরিবর্তে তদন্তকারীদের বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করেন তৃণমূল নেতা।
প্রসঙ্গত, জমি কেলেঙ্কারি ও আর্থিক প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ঘনিষ্ঠ সহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে তল্লাশি চালায় শালবনি থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরেই অভিষেকের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। একটি মহলের দাবি, সুমিতকে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) অফিসেও দেখা গিয়েছিল, যদিও এ বিষয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
এরপর শনিবার গভীর রাতে সুমিতের সন্ধানে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। অভিযোগ, প্রথমে তদন্তে সহযোগিতা মেলেনি এবং বারবার ডেকেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করেন তদন্তকারীরা। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর সকাল আটটা নাগাদ পুলিশ সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।
তল্লাশির খবর পেয়ে রাতেই অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে গোটা ঘটনাকে ঘিরে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে, পুলিশও এখনও পর্যন্ত তল্লাশির ফলাফল বা তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মুখ খোলেনি।


