Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলীয় মতভেদের কারণে একের পর এক তৃণমুল বিধায়ক ও সাংসদরা দলত্যাগ করেছেন। অনেকেই আবার যোগ দিয়েছেন দলের বিদ্রোহী শিবিরে (TMC Rebel MP)। গত ১৮ মে লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২০ জন অসন্তুষ্ট, দলত্যাগী সাংসদের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছিল। সেই তালিকার মধ্যে ১৯ জনের নাম ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে। তবে সেই তালিকায় থাকা নামের অনেকেই আগে বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানের কথা অস্বীকার করেছিলেন। ফলে সেই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
কোন কোন নাম উঠে এসেছে?
প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, বাপি হালদার, ডা. শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ, মালা রায়, কালিপদ সোরেন, দীপক অধিকারী (দেব), জুন মালিয়া এবং পার্থ ভৌমিক। এদের মধ্যে থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকেই দলের চিফ হুইপ পদ দেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে।
মমতার পাশে থাকার বার্তা দিয়েও বিশ্বাসঘাতকতা ?
তালিকায় অভিনেতা-সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব) এবং সাংসদ সায়নী ঘোষের নাম থাকায় রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ গতকাল পর্যন্তও দেব একাধিকবার প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন এবং দল ছাড়ার অথবা বিদ্রোহী শিবিরে (TMC Rebel MP) যাওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই।
একইভাবে সায়নী ঘোষও তৃণমূলের অন্যতম সক্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত। তিনিও আগেই প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “চাড্ডা চাড্ডি হতে পারে, কিন্তু ঘোষ ঘোষই থাকবে।” তা সত্ত্বেও এই বিদ্রোহী নেতাদের তালিকায় তাঁদের নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
কারা আসলে রয়েছেন মমতার পাশে ?
লোকসভায় তৃনমূলের ২৮ টি আসনের মধ্যে ১৯ জন বিদ্রোহী শিবিরে থাকলেও এই দুর্দিনে মমতার সাথেই রয়েছেন বাকি ৯ জন সাংসদ। এই তালিকায় রয়েছেন দলের অভিজ্ঞ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, প্রতিমা মণ্ডল, সাজদা আহমেদ, শত্রুঘ্ন সিনহা ও কীর্তি আজাদ। তবে এদের মধ্যেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় গতকালই জানিয়েছেন, অভিষেক যদি দলে থাকেন, তবে তিনি দলত্যাগ করবেন।
‘বিদ্রোহী শিবিরে’ কী ফাটল?
এদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর-সংবলিত যে চিঠি জমা পড়েছে, সেই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সাংসদরা তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নিজেদের রাজনৈতিক দূরত্ব বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সংসদে এনডিএ জোটের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন।
ফলে বিধানসভার পর লোকসভায় এমন অবস্থায় বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে। আপাতত সমস্ত নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের অবস্থান, স্পিকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ এবং তৃণমূল নেতৃত্বের পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশলের দিকে।


