Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : গত কয়েকদিন ধরেই কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছিল। সেই জল্পনার মধ্যেই একে একে রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন সুস্মিতা দেব, সুখেন্দু শেখর রায়। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের পথ অনুসরণ করে ইস্তফা দেন প্রকাশ চিক বরাইকও। এর পরেই একই দিনে রাজ্যসভার সাংসদ এবং অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকও (Koel Mallick) জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইস্তফা দিলেন।
২০২৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনয়নে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick)। দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি দলীয় রাজনীতির সক্রিয় মুখ না হলেও তৃণমূলের বিভিন্ন প্রচার কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁকে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল। তাঁর শপথ গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই রাজ্যসভার পদত্যাগ ফের নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সংখ্যার অঙ্কে চাপ
একসময় পশ্চিমবঙ্গের ১৬টি রাজ্যসভা আসনের মধ্যে ১৩টিই ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের জেরে সেই সংখ্যা ক্রমশ কমেছে। কোয়েল মল্লিকের (Koel Mallick) পদত্যাগের পর রাজ্যসভায় দলের সাংসদ সংখ্যা নেমে এল ৯এ। এর আগে আরও তিনজন সাংসদ পদত্যাগ করেছেন এবং দলীয় অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে দিল্লিতে তৃণমূলের সাংসদ শক্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দল ছাড়তে পারেন আরও সাংসদ ?
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, এখানেই শেষ নয়। দলের ভাঙন এখনও বাকি। সেই তালিকায় রয়েছেন সাগরিকা ঘোষ, রাজীব কুমার, মেনকা গুরুস্বামীর মত সাংসদরা। অর্থাৎ দলের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ সংসদ পদত্যাগ করতে পারেন।
ইতিমধ্যেই বিধানসভায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা ও অভিষেককে আলাদা করে নতুন তৃনমূল দল গঠন করে বিরোধী দলনেতার আসনে বসেছেন। অন্যদিকে প্রায় ২০ জন সাংসদ নিয়ে লোকসভাতেও দলের ভিতরেই তৈরি হয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এর মধ্যে রাজ্যসভার সাংসদরাও মমতার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছেন। আজই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনিও দল ছাড়তে পারেন। ফলে একের পর এক দলের নির্ভরযোগ্য মুখ তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় নির্বাচনের পর থেকেই চূড়ান্ত বিপাকে পড়েছেন দলের সুপ্রিমো। সাম্প্রতিক সময়ে দলের সাংসদ ও বিধায়কদের একাংশের অবস্থান পরিবর্তনের ঘটনাগুলি তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে ক্রমশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।


