কলকাতা: তৃণমূলের ভরাডুবিতে কংগ্রেসকে খড়কুটোর মত আঁকড়ে বাঁচতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রায় ৩ দশক পড়ে সেই কংগ্রেসেই কি ঘরওয়াপসি করতে চলেছেন মমতা? এই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। পাশাপাশি কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সংযুক্তিকরণের জল্পনাও তুঙ্গে। এই আবহে বৃহস্পতিবার জরুরী বৈঠক ডাকল কংগ্রেস। যাতে সব রাজ্যের প্রদেশ সভাপতি, এবং সব রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকদের তলব করা হয়েছে। তবে কি মমতাকে ফেরানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কংগ্রেস?
উল্লেখ্য, সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদ গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, বলে কংগ্রেস সূত্রে খবর। শুধু মমতাই নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, রাহুল গান্ধী অভিষেককে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও কংগ্রেসের তরফ থেকে প্রস্তাবের কথা মানছে না তৃণমূল নেতৃত্ব।
‘রাহুল গান্ধীকেই প্রধানমন্ত্রীর মুখ হিসেবে মানতে হবে’
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) কি কংগ্রেসে ফেরানো হবে? এই প্রশ্নের জবাবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “যাঁরা কংগ্রেসে যোগ দিতে চান, তাঁদের জন্য দরজা খোলা। তবে আমাদের দলে আসবেন তাঁরাই, যাঁদের গায়ে দুর্নীতির দাগ নেই।” শুধু তাই নয়, শুভঙ্করের সাফ কথা ছিল, কংগ্রেসে কেউ যোগ দিলে রাহুল গান্ধীকেই প্রধানমন্ত্রী পদে একমাত্র মুখ হিসেবে মেনে নিতে হবে।
কি বললেন অধীর?
এদিকে দিল্লির বৈঠক এবং তৃণমূল-কংগ্রেস সম্পর্ক নিয়ে জল্পনার মাঝেই মুখ খুলেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “সনিয়া গান্ধি অত্যন্ত উদার মানসিকতার মানুষ, তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দেন। আজ তৃণমূল কংগ্রেস যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা মূলত তাদের নিজেদের ভুলের ফল।” তবে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও সম্ভাব্য সংযুক্তি বা মার্জার নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য এড়িয়ে যান অধীর। তাঁর বক্তব্য, “দলীয় সংযুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সেটি পুরোপুরি শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিষয়।” সুতরাং, আগামীকালের বৈঠকে কি আলোচনা করে কংগ্রেস, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।


