Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : বিধানসভার ছায়াতেই এবার লোকসভার ভাঙন। ঠিক যেভাবে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেতা বানিয়ে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে পৃথক বিদ্রোহী তৃনমূল দল গঠিত হয়েছে, সেভাবেই সোমবার কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে (Kakoli Ghosh Dastidar) গোষ্ঠীর মুখ বানিয়ে পৃথক ব্লক গঠন করলেন তৃনমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। বিধানসভা ও লোকসভা দুই ক্ষেত্রেই এবার নিয়ন্ত্রণ হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠকে বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে আইনি বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠকে সংসদীয় বিধি এবং দলীয় হুইপ সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হয়। বৈঠকে উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশ বাসুনিয়া, কালীপদ সরেন, অরূপ চক্রবর্তী, পার্থ ভৌমিক এবং শর্মিলা সরকার।
প্রথম দিকে বিজেপিতে যোগদানের তথ্য উঠে এলেও শেষ পর্যন্ত দলের মধ্যেই দল গঠন করলেন এই সাংসদরা। সরাসরি অন্য দলে যোগ দিলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের প্রশ্ন সামনে আসতে পারত। কিন্তু সংসদের ভেতরেই পৃথক ব্লক গঠনের কৌশলে সহজেই সেই ঝুঁকি এড়ালেন সাংসদরা। পাশাপাশি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের (Kakoli Ghosh Dastidar) নামই লোকসভার মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ পদে ঘোষণা করেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, বিধানসভার ভরাডুবির পর তৃণমূল নেতৃত্ব কাকলি ঘোষদস্তিদারকে লোকসভার মুখ্য সচেতক পদ থেকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেয়। তবে বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংসদীয় প্রক্রিয়ার কিছু প্রশ্ন রয়েছে। সেই কারণেই তাঁরা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিফ হুইপ মানতে অনীহা দেখান।
ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, তবে কি চিফ হুইপ পদ থেকে সরানোর বদলা নিতেই বিদ্রোহী শিবিরে যোগদান করলেন কাকলি ? এই পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে চার দশকের আনুগত্যের ‘পুরস্কার’ পেয়েছেন। তখনই দলের পুরনো নেতৃত্বের প্রতি অভিমান ও অসন্তোষ ফুটে উঠেছিল তাঁর কথায়। পরবর্তীকালে সমস্ত দলীয় পদ থেকে তাঁর ইস্তফাও দলবদলের দিকেই ইঙ্গিত করেছিল। এবার লোকসভায় এই বিদ্রোহী দল ও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান আগামী দিনে কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


