Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : বিধানসভায় তৃণমুল কংগ্রেস দলের ভাঙনের পরেই লোকসভাতেও (Loksabha) এই ভাঙনের আঁচ এসে পড়েছে। দলের একাধিক সাংসদের সম্ভাব্য দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সোমবার সকালেই বিজেপিতে যোগদানের আগে লোকসভার (Loksabha) সেই বিদ্রোহী তৃনমূল সাংসদদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাও শুরু হয়েছে। এই সম্ভাব্য মেগা দলবদলের ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান শর্তকে কেন্দ্র করেই দরকষাকষি এগোচ্ছে।
কী কী শর্ত জানানো হয়েছে ?
সম্ভাব্য দলবদলকারী সাংসদদের প্রথম ও প্রধান শর্ত হল আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা (Loksabha) নির্বাচনে তাঁদের সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র থেকে প্রার্থী পদ নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে আগাম প্রার্থী হওয়ার আশ্বাস চাইছেন তাঁরা। দলবদলের পর সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এড়াতেই এই দাবি সামনে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দাবি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা। তৃণমূল ছাড়লে আগের নিরাপত্তা প্রত্যাহার হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে কয়েকজন সাংসদের মধ্যে। সেই কারণেই দিল্লির কাছে উচ্চস্তরের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বিশেষ করে যাঁরা অতীতে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে এই দাবি আরও জোরালো।
সম্ভাব্য দলবদলকারীদের মধ্যে এক প্রভাবশালী নেত্রী শুধু রাজনৈতিক নিরাপত্তা বা টিকিট নিশ্চয়তায় সন্তুষ্ট নন। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও গুরুত্বপূর্ণ কমিশন বা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান পদ পাওয়ার প্রত্যাশাও তিনি ব্যক্ত করেছেন বলে খবর। যদিও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দিল্লির গোপন বৈঠকে কারা?
সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশ বাসুনিয়া, কালীপদ সরেন, অরূপ চক্রবর্তী, পার্থ ভৌমিক এবং শর্মিলা সরকার।
সরাসরি বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও দিল্লির সঙ্গে আগেভাগেই যোগাযোগ ও আলোচনা সেরে রেখেছেন আরও চার সাংসদ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইউসুফ পাঠান, দেব অধিকারী এবং শত্রুঘ্ন সিনহা। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে পারিবারিক কারণে বিদেশে থাকলেও তিনিও আগেই এই বিষয়ে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে কথা বলে গিয়েছেন।
সাংসদদের এই দাবিগুলি মেনে নেওয়া হলেই ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে সবথেকে বড় দলবদল ঘটবে। বিকেলের মধ্যেই এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে। ফলে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দিল্লির দিকে।


