Aaj India Desk, কলকাতা : আগেই মিলেছিলো ইঙ্গিত। Aaj India সেই তথ্য প্রকাশ্যেও এনেছিল। সেই তথ্যকে সত্যি প্রমাণিত করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দলের বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)। সোমবার তিনি নিজের পদত্যাগের কথা প্রকাশ্যে জানান। পদত্যাগের পরই দলের সংগঠন, নেতৃত্ব এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সাংসদ পদের সাথে ছাড়লেন দলও
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy) বলেন, তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসও ছেড়েছেন। দীর্ঘদিন দলের মুখপাত্র ও সংসদীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত সুখেন্দু শেখরের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সুখেন্দু শেখর রায়ের (Sukhendu Sekhar Roy) বক্তব্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, একসময় পরিবর্তনের লক্ষ্যে গঠিত রাজনৈতিক শক্তি পরে সেই লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে। তাঁর মতে, মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে দল ব্যর্থ হয়েছে। মূলত এই কারণেই তিনি দল ছাড়ছেন বলে জানিয়েছেন।
দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী সুর
দলের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন সাংসদ। তিনি বলেন, জাতীয় স্তরের নেতাদের সম্পত্তির উৎস এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে নিরপেক্ষ অডিট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অতীতের একাধিক বিতর্কিত ঘটনার উল্লেখ করে তিনি দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে ওঠার অভিযোগও করেন। আরজি কর হাসপাতাল কাণ্ডের সময় নিজের অবস্থানের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন সুখেন্দু শেখর রায়। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় তিনি দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন, কারণ সাধারণ মানুষ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চেয়েছিলেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক মাস ধরে দলের সঙ্গে সুখেন্দু শেখর রায়ের দূরত্ব বাড়ছিল। সেই প্রক্রিয়ারই চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে তাঁর পদত্যাগকে। এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত এল, যখন তৃণমূলের অন্দরে সাংগঠনিক সমীকরণ এবং নেতৃত্ব নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এখন সুখেন্দু শেখর রায়ের পদত্যাগ দলের অন্দরে কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে তার উপরেই থাকবে নজর।


