Aaj India Desk, কলকাতা : যেটা হওয়ার ছিল সেটাই হলো। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বুধবার দেখা গেলো নাটকীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি। শেষপর্যন্ত ভেঙে গেলো তৃনমূল। ইতিমধ্যেই বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষুব্ধ বিধায়ক বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছেন। ওই চিঠিতে রয়েছে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সই। একইসঙ্গে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। অর্থাৎ আর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিরোধী দলনেতা হতে চলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
কারা রয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিবিরে?
বুধবার বিধানসভায় প্রবেশের সময় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) সঙ্গে দেখা যায় শিউলি সাহা, রিয়াজ হুসেন, ইমানি বিশ্বাস এবং সাবিনা ইয়াসমিনকে। হাওড়া জেলার তিন বিধায়কও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। এদিন উপস্থিত ছিলেন অরুণাভ সেনও। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে মধ্যমগ্রামের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষের উপস্থিতি। সম্প্রতি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি।
আগেই মিলেছিল ইঙ্গিত ?
এই ঘটনার ইঙ্গিত মিলেছিল রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সম্প্রতি দিল্লি সফরের সময়েই। সেই সময়েই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) শুভেন্দু অধিকারীর সাথে দেখা করেছিলেন। ওই সাক্ষাতই আজকের ভাঙনের পূর্বাভাস দিয়েছিল। সিপিএম থেকে বিতাড়িত ঋতব্রত তৃনমূলে গিয়ে টিকিট পেয়ে জয়ী হয়েও আজ তিনিই দল ভেঙে দলের বিরোধী দলনেতা হয়ে বসলেন।
এই বিষয়ে আগেই প্রায় নিশ্চিত ছিল বিজেপি। এই কারণেই এতদিন ধরে পূর্ব নির্বাচিত বিরোধী দলনেতা শোভনদেবকে রুম দেওয়া হয়নি। তবে এই নিয়ে তাঁকে আজ ইন্ডিয়া প্রশ্ন করায় আপাতত তিনি কিছু বলতে চাননি।
এখন নজর থাকবে স্পিকারের অবস্থান এবং শাসকদলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার দিকে। বুধবারের এই ঘটনাপ্রবাহ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করে কি না, তা আগামী দিনেই স্পষ্ট হবে।


