Aaj India Desk, পূর্ব বর্ধমান: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojona) অনলাইন ফর্ম ফিল-আপ আজ থেকেই শুরু হয়েছে। যদিও অফলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া দু’দিন আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। তবে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে এই ফর্ম ফিলাপ (From-fillup)-এর পদ্ধতি। ১২ পাতার দীর্ঘ এই আবেদনপত্রে শুধুমাত্র আবেদনকারীর তথ্যই নয়, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কেও একাধিক তথ্য দিতে হচ্ছে। আর সেই কারণেই ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে অনেক মহিলাকেই বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) একাধিকবার জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। সরকারি আধিকারিকরাই ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়েও আবেদনপত্র পূরণ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবুও স্বস্তি মিলছে না অনেক মহিলার। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, যাঁরা আগামী ২ জুনের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ জুন থেকেই আর্থিক সহায়তার টাকা পৌঁছতে শুরু করবে। সেই কারণেই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন সম্পূর্ণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বহু মহিলা।
এদিকে, পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর (Manteswar) গ্ৰামে দেখা গেল এক অন্য ছবি। গ্রামাঞ্চলের মহিলারা যাতে চলতি মাস থেকেই সরকারি সহায়তা পেতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে বিজেপির কয়েকজন কর্মী স্বেচ্ছায় তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মন্তেশ্বর বিধানসভার ৩৪ নম্বর বুথের বিজেপি কর্মী প্রশান্ত প্রামাণিক, শিবা গড়াই-সহ আরও কয়েকজন কর্মী কলম হাতে নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে মহিলাদের ফর্ম পূরণে সাহায্য করছেন। জানা গিয়েছে, গত দু’দিনে তাঁরা প্রায় ২০০-রও বেশি আবেদনপত্র পূরণ করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, অতীতে তৃণমূল সরকারের আমলে মহিলাদের আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। রাজ্যে ক্ষমতা পালাবদলের পর বিজেপি সরকার অন্নপূর্ণা প্রকল্প চালুর ঘোষণা করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের বহু মহিলা এই প্রকল্পের দিকে আশাবাদী দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন। এখন দেখার, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সেই আর্থিক সহায়তা তাঁদের হাতে পৌঁছায় কি না।


