Aaj India Desk, হাওড়া : রাজ্য জুড়ে ইতিমধ্যেই একাধিক তৃনমূল (Trinamool Congress) নেতা মন্ত্রীর নাম উঠে এসেছে দুর্নীতি মামলায়। এর আগে তৃনমূল নেতা শামিম আহমেদ ও বিমানকৃষ্ণকেও ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগে আটক করা হয়। ফের শনিবার সকালে হাওড়া মধ্যের তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের বাড়ির সামনে বা সংলগ্ন একটি গোডাউনে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগ উঠে এলো। বিজেপির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই গোডাউনে ত্রিপল ও কম্বল মজুত রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি সেগুলি সরানোর চেষ্টা হলে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা বাধা দেন এবং অভিযোগ তোলেন।
কী অভিযোগ উঠেছে?
বিজেপি কর্মী এবং এলাকাবাসীর দাবি, অরূপ রায়ের বাড়ির সামনে সংশ্লিষ্ট গোডাউনে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল ও কম্বল রাখা ছিল। তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের বদলে এই ত্রাণ সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে মজুত রেখেছিলেন অরূপ রায়। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি সামগ্রী কীভাবে একটি রাজনৈতিক নেতার বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মজুত ছিল, তার উত্তর দিতে হবে প্রশাসনকে। তবে এই দাবিগুলির স্বাধীন ও সরকারি যাচাই এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট এখনও সামনে আসেনি।
অতীতেও ত্রাণ দুর্নীতিতে নাম উঠেছে তৃনমূলের
পশ্চিমবঙ্গে অতীতেও ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ত্রাণ বণ্টন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ত্রাণ সামগ্রী মজুত, বণ্টনে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত দেখা গিয়েছে। হাওড়া জেলার একাধিক তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতাকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি অরূপ রায় ঘনিষ্ঠ শামিম আহমেদ ওরফে বড়ের বিপুল বিলাসবহুল বাড়ি ও টাকা, স্থানীয় তৃনমূল চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের থেকে ৮০ লক্ষ নগদ টাকা ও বহু সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। সেই দুর্নীতিতেই এবার নাম জড়াল খোদ অরূপ রায়ের।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ত্রাণ সামগ্রীগুলি সরকারি কি না, সেগুলি সেখানে কেন রাখা হয়েছিল এবং কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমেই।


