Aaj India Desk, কলকাতা : অন্নপূর্ণা ভান্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্পে ভাতা প্রদান নিয়ে ফের নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্যে। ভোটের আগে দ্রুত ভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে এখনও আবেদন প্রক্রিয়াই সম্পূর্ণ শুরু হয়নি। এর জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। ভোটের আগে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডারের উপভোক্তাদের সরাসরি অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সেই সঙ্গে মাসিক ৩০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। পরে জানানো হয়, ১ জুন থেকে টাকা প্রদান শুরু হতে পারে। সাথে গতকাল থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম দেওয়া শুরু করে সরকার। এই ফর্ম ঘিরেও তৈরি হয়েছে ক্ষোভ।
ফর্ম ঘিরে কেনো অসন্তোষ ?
বর্তমানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) পোর্টাল থেকে আবেদনকারীদের হাতে ১১ থেকে ১২ পাতার একটি ফর্ম ডাউনলোড করতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সেই আবেদনপত্রে বা ফর্মে পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, জমির বিবরণ, সন্তানদের শিক্ষার তথ্য, টিকাকরণের ইতিহাসের মতো একাধিক তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এই তথ্যগুলির অনেকগুলিই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। পাশাপাশি যারা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে চান তাদের অনেকেই স্বাক্ষর নন। ফলে অন্যের সাহায্য ছাড়া সেই ফর্ম পূরণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পরিবারের সকলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর থেকে জমির দলিলের তথ্যের মত ব্যক্তিগত তথ্য অন্যকে দিয়ে তবে ফর্ম পূরণ করা যাবে। এই নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যেই।
মে মাসের কিস্তি নিয়েও প্রশ্ন
কিছু উপভোক্তার অভিযোগ, মে মাসে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি। এই বিষয়েও প্রশাসনের তরফে এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি বলে দাবি বিরোধীদের। এদিকে সেই কিস্তি না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন বহু সাধারণ পরিবার। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের মহিলাদের একাংশের দাবি, মাসের শুরুতে এই টাকার উপর নির্ভর করেই সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, ওষুধ, বাজার ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় সামলানো হয়। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পৌঁছনোয় অনেকেই আর্থিক চাপে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠছে। বিভিন্ন জায়গায় উপভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষও বাড়ছে।
অন্নপূর্ণা ভান্ডারকে (Annapurna Bhandar) কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপ বাড়তে শুরু করেছে। বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করছে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত ভাতা না দিয়ে দীর্ঘ আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যে সাধারণ মানুষকে ফেলা হয়েছে যাতে তারা ফর্ম পূরণ না করতে পারেন এবং সরকারকে ভাতা দিতে না হয়। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, নতুন প্রকল্পকে স্বচ্ছ রাখার জন্য এই বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী ঘোষণার দিকে। বিশেষ করে পোর্টাল কবে সম্পূর্ণ চালু হবে এবং প্রথম কিস্তির টাকা কবে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে, তা নিয়েই অপেক্ষায় রয়েছেন বহু মহিলা।


