স্নেহা পাল, বেহালা: সোমবার সকালে বেহালা (Behala) নতুনপাড়ার প্রিয়দর্শিনী অ্যাপার্টমেন্টের নিজের ফ্ল্যাটে খুন হন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ও প্রাক্তন দূরদর্শন কর্মী (Doordarshan) অনিতা ঘোষ (Anita Ghosh) (65)। তদন্তে নেমে পুলিশ জানায়, ২০ হাজার টাকা নিয়ে বচসা থেকেই ঘটেছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।
চাকরি ছাড়ার পরও বাড়িতে ফেরত
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত সঞ্জু সরকার আগে অনিতা ঘোষের (Anita Ghosh) বাড়িতে আয়ার কাজ করতেন। কয়েক মাস কাজ করার পরই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়। এরপরও তিনি একাধিকবার বাড়িতে এসে টাকা চাইতেন। তদন্তকারীদের দাবি, এটি বকেয়া বেতনের বিষয় নয়, বরং অভিযুক্ত বারবার ২০ হাজার টাকা ধার চাইছিলেন এবং চাপ দিচ্ছিলেন।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত টাকা ধার নিয়ে ফেরত দিতেন না। পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পরও তিনি বারবার বাড়িতে আসতেন।”
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ঘটনার আগে বাড়ির পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্ত। গত রবিবার অনিতা ঘোষ (Anita Ghosh) কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকে গেলে, তাঁর বর্তমান আয়া ফোন করে জানান যে এক প্রাক্তন আয়া বাড়িতে এসে ঢুকতে চাইছেন। তখনই অনিতা ঘোষ স্পষ্ট নির্দেশ দেন, কাউকে যেন বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়া হয়।
ধস্তাধস্তির চিহ্ন অভিযুক্তের শরীরে
সোমবার সন্ধ্যায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে খুনে ব্যবহৃত ছুরি ও সোনার গয়না উদ্ধার করে পুলিশ। আলিপুর (Alipur) আদালত অভিযুক্তকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর সৌরিন ঘোষাল (Sourin Ghosal) জানিয়েছেন, অভিযুক্তের শরীরে বহু জায়গায় কাটাছেঁড়ার চিহ্ন রয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় যে তার সাথে ধস্তাধস্তি হয়েছে।
এই ঘটনার পর মৃতার ছেলে অরিত্র ঘোষ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার অনিতা ঘোষের দেহ বাড়িতে ফিরলে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
অনিতা ঘোষ দূরদর্শন ও আকাশবাণীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন বাংলা সঙ্গীতের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুর ঘটনায় শুধু সাংস্কৃতিক মহলই নয়, বেহালা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও ছড়িয়েছে গভীর শোক ও আতঙ্ক।


