Aaj India Desk, কলকাতা : মে মাসে বাংলার রাজনৈতিক আকাশে উঠেছিল গেরুয়া ঝড়। বিজেপির একাধিক প্রতিশ্রুতিতে নতুন আশার ছবি দেখেছিলেন মানুষ। ১০০ দিন পেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে ব্যস্ত, তখনই সামনে এল অন্য এক হিসাব। “দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড” নামে মহিলা পুলিশ প্যাট্রোলিং বাড়ানো, থানায় নারী হেল্প ডেস্ক চালু করা হলেও আরটিআইয়ের (RTI) একটি নথিতে মিললো ধর্ষণ, খুন, খুনের চেষ্টা ও গুরুতর আঘাতের হাজার হাজার মামলার উল্লেখ। রাজ্যের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে সেই নথি।
নথিতে কী কী তথ্যের উল্লেখ?
নথিতে দেওয়া সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে থেকে সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখ পর্যন্ত চার ধরনের অপরাধের সংখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত পাঁচ মাসে ধর্ষণের ২,৪৫৪টি মামলা, ৬০০টি খুনের মামলা, ১৩,১১৪টি খুনের চেষ্টার মামলা এবং ৩২,৩৪১টি গুরুতর আঘাতের মামলা রয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলি রাজ্য অপরাধ রেকর্ডস ব্যুরোর (State Crime Records Bureau) আরটিআইয়ের (RTI) জবাব থেকে পাওয়া গিয়েছে।
অপরাধের পরিসংখ্যান ঘিরে রাজনৈতিক তরজা
এই পরিসংখ্যান ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ-সহ একাধিক নেতা বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে পরিস্থিতিকে ‘ডাবল ইঞ্জিন ডিজাস্টার’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এই নিয়ে বিধানসভায় জরুরি অধিবেশন ডাকারও দাবি তুলেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, বিজেপি সরকারের বক্তব্য, আগের তৃণমূল আমলে বহু অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়নি। নতুন সরকারের আমলে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে পুরোনো অভিযোগ, বিশেষত ভোট-পরবর্তী হিংসা ও ধর্ষণের ঘটনাগুলিও এখন মামলার আকারে নথিভুক্ত হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতির ঝুলি ছিল ভরা। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার কতটা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারছে, তা নিয়েই এবার উঠছে প্রশ্ন। আরটিআইয়ের (RTI) তথ্য বলে দাবি করা নথিতে পাঁচ মাসের মধ্যে ধর্ষণ, খুন, খুনের চেষ্টা ও গুরুতর আঘাতের যে পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে, তা সত্যি হলে সরকারের কাছে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ যে বড়, তা স্পষ্ট। প্রতিশ্রুতির মঞ্চ থেকে প্রশাসনের বাস্তব ময়দান এই দুইয়ের মধ্যে ফারাক কতটা, তার উত্তর দিতে হবে সরকারকেই।


