Aaj lndia Desk, কলকাতা: গ্রামের মানুষের হাতে কাজ তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ১০০ দিনের পুরনো কর্মসূচির জায়গায় এসেছে কেন্দ্রের জি-রাম-জি (G RAM G Scheme)। এই প্রকল্পে একজন গ্রামীণ শ্রমিক বছরে সর্বোচ্চ ১২৫ দিন কাজের সুযোগ পাবেন এমনই লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের প্রায় চার মাস কেটে গেলেও সেই লক্ষ্যে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে রাজ্য।
জবকার্ডের সংখ্যা বিপুল, কাজের পরিসর ছোট
রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ২৯ লক্ষ জবকার্ডধারী রয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কাজের আওতায় এসেছেন মাত্র ২ লক্ষ ৬৭ হাজার জন। অর্থাৎ জবকার্ড থাকা মানুষের তুলনায় বাস্তবে কাজ পাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা অত্যন্ত কম।
এখানেই শেষ নয়। কাজ করেও অনেক শ্রমিক এখনও তাঁদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক হাতে পাননি। বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের তরফে বকেয়া মজুরি মেটানোর বিষয়ে নবান্নে (Nabanna) চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে খবর।
কেন পিছিয়ে প্রকল্পের কাজ?
গ্রামোন্নয়ন দফতর (Panchayat & Rural Development Department)-এর ব্যাখ্যা, এই পরিস্থিতির পিছনে একাধিক প্রশাসনিক সমস্যা রয়েছে। জি-রাম-জি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দফতরের দাবি, রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পঞ্চায়েত দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিধানসভা নির্বাচনের পর অনেক পঞ্চায়েত প্রধান নিয়মিত কাজে ছিলেন না। ফলে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে সমস্যা তৈরি হয়। তাঁদের ফের সক্রিয় করার পাশাপাশি নিচুতলার প্রশাসনিক স্তরেও কর্মীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সময়মতো মজুরি, সেই জায়গাতেও বড় ঘাটতি
জি-রাম-জির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল—কাজ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাত্র ০.৯৯ শতাংশ শ্রমিক ওই সময়সীমার মধ্যে টাকা পেয়েছেন বলে তথ্য সামনে এসেছে।
টাকা পাঠানোর ব্যবস্থাতেও জট
প্রশাসনের কর্তাদের বক্তব্য, ডিবিটি স্পর্শ (DBT Sparsh) এবং এসএনএ স্পর্শ (SNA Sparsh)-এর মাধ্যমে সরাসরি শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। বাংলায় দীর্ঘদিন এই ধরনের প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকায় নতুন করে ব্যবস্থা চালু করতে গিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে।
প্রশাসনের আশা, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও প্রক্রিয়া ঠিকঠাক হয়ে গেলে জি-রাম-জি প্রকল্পের কাজের গতি বাড়বে এবং বকেয়া মজুরিও ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
আগের প্রকল্প নিয়ে কী অভিযোগ ছিল?
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকারের সময়ে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের জেরে বাংলায় দীর্ঘ সময় প্রকল্পের অর্থপ্রবাহ বন্ধ ছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন কাঠামোয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান ফের চালুর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, সেই কর্মসূচি এখনও প্রত্যাশিত গতিতে পৌঁছতে পারেনি।


