Aaj India Desk, কলকাতা: মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। শুনানির সময় তৃণমূল সাংসদ (TMC) ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) এবং রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্রের (Surajit Nath Mitra) মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে হস্তক্ষেপ করে দু’পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করতে হয়।
‘চটি চাটা’ বনাম ‘বুট চাটা’
শুনানির সময় এজি সুরজিৎ নাথ মিত্র তাঁর উদ্দেশে ‘চটি চেটে খায়’ ধরনের মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই পাল্টা আক্রমণ করেন তিনি। এজি-কে উদ্দেশ করে কল্যাণ বলেন, “উনি তো শুভেন্দু অধিকারীর বুট চেটে খাওয়া অ্যাডভোকেট জেনারেল!”পরে আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও রাজ্যের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কারণেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
কল্যাণের আরও অভিযোগ, রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা অনেক মামলায় অপ্রাসঙ্গিক বিষয় তুলে আদালতের সময় নষ্ট করছেন। তাঁর দাবি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় রাজ্য সরকার আদালতে চাপের মুখে রয়েছে। রাজনৈতিক কারণে যাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, তাঁদের অনেকেই পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে যাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতির চাপ থেকেই এ ধরনের আচরণ করা হচ্ছে।
এজির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যে কথা’র অভিযোগ
অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্রের ভূমিকা নিয়েও সরব হন কল্যাণ। তাঁর দাবি, এজি আদালতে জানিয়েছিলেন যে মামলার নোটিস তাঁরা মাত্র আগের দিন পেয়েছেন। অথচ কল্যাণের দাবি, সোমবারই সেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই এজি আদালতে এসেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয়—এজি শুরুতেই এই প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে দাবি করেন কল্যাণ। তাঁর বক্তব্য, সাংবিধানিক আইনের বিষয় থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র কারিগরি প্রশ্ন তুলে মামলাটিকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রায় ৪ হাজার মাইক খোলার অভিযোগ
মামলাকারী ডেনিস ফারুকির আইনজীবীদের অভিযোগ, হুগলির শ্রীরামপুর, রিষড়া, চাপদানী, ভদ্রেশ্বর-সহ একাধিক এলাকায় মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার জন্য পুলিশ মৌখিকভাবে নির্দেশ দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, প্রায় ৪ হাজার লাউডস্পিকার খুলে ফেলার জন্য ইমামদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে।
মামলাকারীদের আরও অভিযোগ, এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। অথচ পুলিশকে ব্যবহার করে মৌখিক নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে।
মামলাকারীদের আইনজীবীরা আদালতে জানান, ১৯৯৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ নির্দিষ্ট শব্দসীমা বা ডেসিবেল মেনে আজানের সময় মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। পরবর্তী সময়েও, ২০২৩ সালে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা এবং বিভিন্ন আদালতের রায়ে নির্দিষ্ট শব্দসীমা মেনে লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকৃত হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।
তবে বর্তমানে পুলিশি চাপের কারণে এই জনস্বার্থ মামলা করতে হয়েছে বলে দাবি মামলাকারীদের। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ করেছে, তা রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার।


