Aaj lndia Desk,নয়াদিল্লি: NEET-UG ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনছে সিবিআই। দিল্লির আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রের লাতুরের এক কোচিং শিক্ষকের মোবাইল থেকেই মিলেছে এমন প্রমাণ, যা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করছে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, লাতুরের কোচিং শিক্ষক শিবরাজ মোটেগাঁওকরের মোবাইল ফোন থেকে ১৩৬টি হাতে লেখা প্রশ্ন উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এর মধ্যে ১১১টি প্রশ্ন জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র আসল NEET-UG প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। আদালতে সিবিআই জানিয়েছে, এত বড় সংখ্যায় প্রশ্নের মিল পাওয়া কেবলমাত্র কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না।
শিবরাজ মোটেগাঁওকর লাতুরে ‘রেণুকাই কেমিস্ট্রি ক্লাসেস’ নামে একটি কোচিং সেন্টার চালাতেন। পাশাপাশি তাঁর ‘Motegaonkar Sir’s RCC’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলও রয়েছে, যেখানে ১ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, লাতুরের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মনোজ শিরুরে এবং NTA-র প্রাক্তন প্যানেল সদস্য ও রসায়নের অধ্যাপক পি ভি কুলকার্নির মাধ্যমে এই প্রশ্নপত্র মোটেগাঁওকরের কাছে পৌঁছয় বলে অভিযোগ। সিবিআইয়ের দাবি, কুলকার্নির প্রশ্নপত্র দেখার সুযোগ বা অনুমতি ছিল।
অভিযোগ, প্রায় ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছিল। পরে সেই প্রশ্নপত্রের পিডিএফ কপি টেলিগ্রামের মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হয় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। ইতিমধ্যেই শিবরাজ মোটেগাঁওকরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর জামিনের বিরোধিতা করতেই আদালতে এই তথ্যগুলি তুলে ধরে সিবিআই।
তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, পরীক্ষার কয়েক সপ্তাহ আগে কিছু পরীক্ষার্থীর হাতে ১৫০ পাতার একটি তথাকথিত ‘গেস পেপার’ পৌঁছে যায়। সেখানে মোট ৪১০টি প্রশ্ন ছিল, যার মধ্যে প্রায় ১২০টি প্রশ্ন NEET-UG-র রসায়ন বিভাগের প্রশ্নের সঙ্গে মিলে যায়।
এই গেস পেপার নিয়েই প্রথম সন্দেহের সূত্রপাত হয় রাজস্থানে। পরে রাজস্থান স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (SOG) তদন্ত শুরু করে। তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে একটি সুসংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের ছবি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারক, মধ্যস্থতাকারী, কোচিং সেন্টার পরিচালনাকারী এবং কিছু পরীক্ষার্থী—সব মিলিয়ে একাধিক স্তরে কাজ করছিল এই নেটওয়ার্ক। রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা এবং দিল্লি-সহ একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা এই চক্রের তদন্তের দায়িত্ব পরে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।


