নয়াদিল্লি: গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের। কিন্তু সেই প্রতিবাদ জানাতেই যদি পকেট থেকে লাখ টাকা খরচ করতে হয়, তাহলে আন্দোলন করবে কে? দিল্লিতে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল (Jantar Mantar protest) হিসেবে ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন এই প্রশ্নই সামনে আসছে।
সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে যন্তর মন্তর নিয়ে নতুন নির্দেশ জারি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তার বদলে বিক্ষোভের (Jantar Mantar Protest) জন্য তিনটি বিকল্প জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে, রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান। পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের জারি করা নির্দেশেই এই সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে বলে দাবি।
তবে বিকল্প জায়গা পেলেই যে সমস্যা মিটে যাচ্ছে, তা নয়। যন্তর মন্তর থেকে রামলীলা ময়দান প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে। বুরারি ময়দানের দূরত্ব প্রায় ১৩.৫ কিলোমিটার, আর সিবিডি ময়দান প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দূরে। ফলে রাজধানীর কেন্দ্রে প্রতিবাদ জানাতে অভ্যস্ত সংগঠনগুলিকে এবার অনেকটাই দূরে যেতে হতে পারে।
তার উপর রয়েছে খরচের চিন্তা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রামলীলা ময়দানের ১২ একর জায়গা বুক করতে দৈনিক ভাড়া ৫০ হাজার টাকা। নিরাপত্তা বাবদ জমা ও কর যোগ হলে মোট খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৫৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য, আর প্রায় ৬৬ হাজার টাকা ফেরত পাওয়া যায় না বলে দাবি।
এত দিন যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ (Jantar Mantar Protest) করতে মাঠ ভাড়া দিতে হত না, পুলিশের অনুমতিই ছিল মূল বিষয়। সেখানে বিকল্প হিসেবে চিহ্নিত মাঠে এত টাকা খরচ করতে হলে ছোট সংগঠন কিংবা সীমিত সামর্থ্যের আন্দোলনকারীদের পক্ষে প্রতিবাদ আয়োজন করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
অবশ্য রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভের নতুন নিয়ম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট নয় বলে জানা যাচ্ছে। মাঠ ব্যবহারের জন্য পুরসভার অনুমতি এবং পুলিশের ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ প্রয়োজন হতে পারে। আর টাকা খরচ করলেই যে বিক্ষোভের অনুমতি মিলবে, তারও নিশ্চয়তা নেই।
যন্তর মন্তর (Jantar Mantar Protest) বন্ধ, বিকল্প মাঠে বিপুল খরচ, তাহলে দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো কি আরও কঠিন হয়ে উঠবে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এভাবে কি প্রতিবাদ-আন্দোলন দমিয়ে দেওয়া যায়?


