কলকাতা: পুলিশি অনুমতি নেই, আদালতেও মিলল না তাৎক্ষণিক সুরাহা! দুর্গাপুজোয় নৈহাটি ও বনগাঁয় বুকস্টল বসানো নিয়ে আইনি জট কাটল না বামেদের (CPM Bookstall Case)। পুলিশের অনুমতি না মেলায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় উদ্যোক্তারা। দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলেও জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি শোনার অনুমতি দিলেন না বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। ফলে পুজোর আগে বুকস্টল বসানো নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেল।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় এমন বুকস্টল (CLM Bookstall Case) বসানোর পক্ষে কোনও নথিপত্র রয়েছে কি না। সেই নথি থাকলে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির প্রয়োজনীয়তা কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন তিনি। বিচারপতির বক্তব্য, দুর্গাপুজোর আগে মামলাটির শুনানি সম্ভব নয়।
‘প্রতি বছর বুকস্টল হয়’, আদালতে যুক্তি বামেদের
বামেদের পক্ষে মামলাকারী আইনজীবী শামিম আহমেদ আদালতে জানান, উদ্যোক্তারা প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে এই বুকস্টল (CPM Bookstall Case) করে থাকেন। তবে সেই যুক্তিতে জরুরি শুনানির অনুমতি মেলেনি। বরং বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পরামর্শ দেন, কালীপুজোর আগে বুকস্টল করার বিষয়টি বিবেচনা করতে।
এখানেই শেষ নয়। মামলাটি অন্য বেঞ্চে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও আদালতে আলোচনা হয়। বিচারপতির বেঞ্চে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে সময় না থাকলে উদ্যোক্তারা অন্য বেঞ্চে চেষ্টা করতে পারেন। এরপর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ থেকে মামলা সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
আদালত জানায়, আগামী ১৩ অক্টোবর আবেদনটি বিবেচনা করার সময় মামলাটি অন্য বেঞ্চে সরিয়ে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে আপাতত নৈহাটি ও বনগাঁয় বুকস্টল ঘিরে আইনি জট রয়েই গেল।
বুকস্টল বিতর্কে রাজনৈতিক উত্তাপ
এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কও। দুর্গাপুজোয় বামেদের বইয়ের স্টল (CPM Bookstall Case) বসানো নিয়ে এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্য ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছিল। অভিযোগ, তিনি বলেছিলেন, “দুর্গাপুজো না লিখলে বামেদের বইয়ের স্টলের অনুমতি মিলবে না।”
সেই আবহেই নৈহাটি ও বনগাঁয় পুলিশের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তবে আদালতে জরুরি শুনানির অনুমতি না মেলায় পুজোর আগে সমস্যার সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এখন নজর ১৩ অক্টোবরের দিকে
নৈহাটি ও বনগাঁয় বুকস্টল (CPM Bookstall Case) বসানোর অনুমতি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ভর করছে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর। ১৩ অক্টোবর মামলাটি অন্য বেঞ্চে সরানোর আবেদন বিবেচিত হলে শুনানির নতুন পথ খুলতে পারে।
পুজোর বুকস্টল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, পুলিশের অনুমতি এবং আদালতের আইনি প্রক্রিয়া, সব মিলিয়ে এখন প্রশ্ন একটাই, দুর্গাপুজোর আগে কি আদৌ বুকস্টল বসাতে পারবেন বামেরা?


