SPECIAL FEATURE
অক্টোবর মাসের শেষ দিন। কোথাও বাড়ির সামনে সাজানো কুমড়োর লণ্ঠন, কোথাও ভয় ধরানো মুখোশ, আবার কোথাও জমজমাট থিম পার্টি। চারদিকে যেন ভৌতিক আবহ! প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর এমনই উৎসবের আমেজ তৈরি হয় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। এই বিশেষ আয়োজনের নাম হ্যালোইন (Halloween)। পশ্চিমী দেশগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত হলেও বর্তমানে ভারত-সহ এশিয়ার একাধিক জায়গায় এই উৎসবের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে এই আয়োজনের পিছনে রয়েছে কয়েক শতাব্দী নয়, প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময়ের পুরনো ইতিহাস।
প্রাচীন এক উৎসব থেকে হ্যালোইনের জন্ম
ইতিহাসবিদদের মতে, হ্যালোইনের শিকড় রয়েছে প্রাচীন কেল্টিক (Celtic) জনগোষ্ঠীর সামহেইন (Samhain) উৎসবে। আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড-সহ ইউরোপের কিছু অঞ্চলে এই উৎসবের প্রচলন ছিল। ফসল তোলার মরশুম শেষ হওয়ার পর শীতের আগমনকে স্বাগত জানাতেই মূলত এই অনুষ্ঠান হত।
সেই সময়কার মানুষের ধারণা ছিল, অক্টোবরের শেষ রাতে জীবিত ও মৃতদের জগতের মধ্যবর্তী ব্যবধান কমে যায়। মৃতদের আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে বলেও বিশ্বাস করতেন অনেকে। সেই আশঙ্কা থেকেই অদ্ভুত পোশাক পরে নিজেদের আড়াল করতেন তাঁরা। আগুন জ্বালানোর রীতিও ছিল এই অনুষ্ঠানের অন্যতম অংশ।
কুমড়োই বা কেন হ্যালোইনের প্রতীক?
হ্যালোইনের সাজসজ্জায় কুমড়োর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কুমড়ো কেটে তার গায়ে চোখ, নাক ও মুখের আকৃতি তৈরি করে ভিতরে আলো জ্বালানো হয়। একে বলা হয় জ্যাক-ও-ল্যান্টার্ন (Jack-o’-Lantern)। তবে প্রথম থেকেই কুমড়োর ব্যবহার ছিল না। আয়ারল্যান্ডে আগে শালগম খোদাই করে আলো জ্বালানোর চল ছিল। পরবর্তীকালে উত্তর আমেরিকায় এই রীতি পৌঁছলে বড় আকারের কুমড়ো ব্যবহার শুরু হয়।
শিশুদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘ট্রিক অর ট্রিট’
হ্যালোইন মানেই শুধু ভৌতিক সাজ নয়। এই উৎসবের অন্যতম জনপ্রিয় অংশ ‘ট্রিক অর ট্রিট’ (Trick or Treat)। শিশুরা নানা রকম পোশাক পরে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে ক্যান্ডি, চকোলেট ও মিষ্টি সংগ্রহ করে। এই প্রথার সঙ্গে ইউরোপের পুরনো লোকাচারের যোগ রয়েছে।
বদলে গিয়েছে উৎসবের ধরন
একসময় ধর্মীয় বিশ্বাস, মৃতদের স্মরণ এবং অশুভ আত্মার ভয়কে ঘিরে এই দিনটি পালিত হত। কিন্তু আধুনিক সময়ে সেই ধারণার জায়গা নিয়েছে বিনোদন। এখন হ্যালোইন উপলক্ষে বিশেষ পার্টি, ভৌতিক সিনেমা দেখা, পোশাক প্রতিযোগিতা এবং বাড়ি সাজানোর আয়োজন হয়। তারকারাও নানা অভিনব সাজে অংশ নেন এই উদযাপনে।
ইউরোপ ও আমেরিকার সীমানা ছাড়িয়ে হ্যালোইন এখন আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। ভারতেও বিশেষ করে শহরাঞ্চলে তরুণদের মধ্যে এই উৎসব ঘিরে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ, কয়েক হাজার বছরের পুরনো লোকবিশ্বাস থেকে জন্ম নেওয়া হ্যালোইন আজ বদলে গিয়েছে আনন্দ আর বিনোদনের এক বিশেষ আয়োজনে।


