নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে ত্রাহ ত্রাহি রব বাংলাদেশে (Bangladesh)। জ্বালানি সংকটে কার্যত আংশিক লকডাউন হয়ে যায় ঢাকার একাংশে। সরকারি ভাবে ঘোষিত না হলেও, ঢাকার ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় জ্বালানি বাঁচাতে আংশিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জ্বালানি সংকটের গোড়া থেকেই কয়েক দ্দফায় বাংলাদেশকে ডিজেল দিচ্ছে ভারত।
জানা গিয়েছে, দিল্লিতে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে বৈঠক করে আরও ডিজেল চেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ভারতের তেলের চাহিদার কতটা মজুত আছে দেখে বাংলাদেশকে তেল দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র তেল নয়, ভারতের কাছে আরও এক আর্জি রেখেছে বাংলাদেশ (Bangladesh)।
কি চাইছে ঢাকা?
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মহম্মদ ইউনুস-এর হাতে দায়িত্বভার থাকাকালীন ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক ছেদ পড়ে। এরপর বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা-কে বারবার ফেরত চাওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ক্ষমতায় আসেন তারেক রহমান, যার ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কেও ধীরে ধীরে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
বুধবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman) দিল্লিতে জয়শঙ্করের (S Jaishankar) সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে পৃথকভাবে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও আলোচনায় অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তারেক সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লা।
বৈঠকে বাংলাদেশের (Bangladesh) পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) ফেরত দেওয়ার নতুন করে দাবি তোলা হয়। এছাড়াও আওয়ামী লীগের নেতা এবং হাসিনার আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যার্পণও দাবি করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি সরকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রয়োজনে পুরনো ইউনুস সরকারের দাবিকে পুনরায় তুলে ধরেছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ভারত, বলে জানা গিয়েছে।


