Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: সিকিমের রাজ্যপাল পদে বিজেপি নেতা দুষ্মন্ত কুমার গৌতমের নিয়োগের প্রতিবাদে ইন্ডিয়া গেটের (India Gate) ধর্নায় বসেছিলেন ২০২২ সালে খুন হওয়া উত্তরাখণ্ডের তরুণী অঙ্কিতা ভাণ্ডারির বাবা-মা। বৃহস্পতিবার ভোরে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) তাঁদের আটক করে। পরে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কংগ্রেসের (Congress) দাবি, অঙ্কিতার বাবা-মায়ের পাশাপাশি ধর্নায় অংশ নেওয়া দলের সমস্ত বিক্ষোভকারীকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তি পাওয়ার পর অঙ্কিতার বাবা-মা এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছে কংগ্রেস।
বুধবার রাত থেকে ইন্ডিয়া গেটে এই বিক্ষোভ চলছিল। অঙ্কিতা হত্যাকাণ্ডে কথিত ‘ভিআইপি যোগ’-এর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুষ্মন্ত কুমার গৌতমের রাজ্যপাল পদে নিয়োগ বাতিল বা স্থগিত রাখার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, এই অভিযোগের তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত গৌতমের নিয়োগ মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার ভোর ৪টে নাগাদ অঙ্কিতার বাবা-মা-সহ বিক্ষোভকারীদের আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কংগ্রেস। দলের নেতাদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং অঙ্কিতার বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের আটক করা হয়েছে।
আটক হওয়ার পর একটি বাসের ভিতর থেকে কথা বলেন অঙ্কিতার বাবা। তিনি জানান, মেয়ের বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন থামবে না। তাঁর কথায়, গোটা দেশে প্রতিবাদ চলবে। পাশাপাশি, দুষ্মন্ত কুমার গৌতমের নিয়োগ বাতিল করার দাবিও জানান তিনি। সেই দাবি পূরণ না হলে ফের আন্দোলনে নামার কথা বলেন অঙ্কিতার বাবা। এর আগে বুধবার ধর্নাস্থলে অঙ্কিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা।
উল্লেখ্য, উত্তরাখণ্ডের একটি রিসর্টে কাজ করতেন অঙ্কিতা ভাণ্ডারি। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে খুন করা হয়। ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর চিল্লা খাল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এই মামলায় রিসর্টের মালিক পুলকিত আর্য এবং তাঁর দুই কর্মী সৌরভ ভাস্কর ও অঙ্কিত গুপ্তকে খুন এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্ট-সহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০২৫ সালের ৩০ মে তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়।
অঙ্কিতার বাবা-মা-সহ বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনায় সরব হন কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে, পবন খেরা এবং কাজি নিজামুদ্দিন। পবন খেরা এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর আঘাত বলে অভিযোগ করেন। অন্যদিকে, সুপ্রিয়া শ্রীনাতে প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়া বাবা-মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হল। তাঁর অভিযোগ, বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে সরকার কথিত ‘ভিআইপি যোগ’-এর অভিযোগের মধ্যে থাকা ব্যক্তিকে রাজ্যপাল পদে নিয়োগ করেছে।
অঙ্কিতার পরিবারের মূল দাবি, হত্যাকাণ্ডে কথিত
‘ভিআইপি’-র ভূমিকা নিয়ে তদন্ত সম্পূর্ণ করতে হবে এবং সেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুষ্মন্ত কুমার গৌতমের নিয়োগ বাতিল করতে হবে। মেয়ের বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন অঙ্কিতার বাবা।


