Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: দিপকে-সহ ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) একাধিক নেতার বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST) সংক্রান্ত আইনে মামলা দায়ের করল দিল্লি পুলিশ (Delhi Pollice)। এই মামলায় কয়েকজন স্বাধীন সাংবাদিকের নামও রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এফআইআরে অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, রত্না সিং এবং স্বাধীন সাংবাদিক রোজি ও গজেন্দ্র সিংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই আইনি পদক্ষেপের ফলে কি সিজেপির প্রথম সারির নেতাদের দীর্ঘদিন জেলে থাকতে হতে পারে? ১৯৮৯ সালের তফশিলি জাতি ও উপজাতি সংক্রান্ত আইনে নির্দিষ্ট শর্তে জামিন পাওয়া কঠিন হতে পারে। অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা সম্ভব। ফলে জামিন পেতেও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে তাঁদের।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কনট প্লেস ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ বিবেক ভগত স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর উদ্দেশে অপমানজনক এবং জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ায় এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার দুপুরে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় দিল্লির একটি নিম্ন আদালত। অভিযোগ, তাঁরা ব্যারিকেড ভেঙে যন্তর মন্তরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। এরপর পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে। ওই ঘটনার পর বুধবার রাতেই নতুন করে এই মামলা দায়ের হয়।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁর অভিযোগ, দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা কার্যত অলিখিত জরুরি অবস্থার মতো। দিপকের বক্তব্য, সরকার যদি জরুরি অবস্থা জারি করতে চায়, তাহলে লিখিত বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তা ঘোষণা করুক। এরপর দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার বুঝে নেবেন।
এদিকে শুক্রবারের কর্মসূচি নিয়েও মুখ খুলেছেন সিজেপি নেতৃত্ব। আগামীকাল বিকেলে দিল্লির কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পরিকল্পনা করেছে দল। এই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সকলকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অভিজিৎ দিপকের দাবি, তাঁদের আন্দোলনের সঙ্গে কংগ্রেস-সহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র কর্মসূচির কোনও বিরোধ নেই। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন দল নিজেদের মতো করে আন্দোলন করলেও লক্ষ্য এক। তবে, কংগ্রেস সূত্রে খবর, রাহুল গান্ধীর চা-চক্রে যোগ দেওয়ার জন্য দিপকে-সহ সিজেপির নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের কেউই সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি নিয়ে সিজেপি নেতাদের বক্তব্য, এই কাজকে পুলিশ অপরাধ বলে মনে করে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ। অভিজিৎ দিপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে জেলে যেতে হলেও তাঁরা পিছিয়ে আসবেন না।
অন্যদিকে, প্রাক্তন সলিসিটর জেনারেল হরিশ সালভের একটি মন্তব্যেরও বিরোধিতা করেছে সিজেপি। সম্প্রতি সালভে দাবি করেছিলেন, দেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলিতে বিদেশ থেকে অর্থ আসছে। এর জবাবে অভিজিৎ দিপকে বলেন, সালভে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী। তাঁর কাছে যদি এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ থাকে, তাহলে তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। দিপকের আরও দাবি, তাঁদের দলের অর্থের উৎস নিয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা সরকারের তরফে কোনও প্রশ্ন তোলা হয়নি। তাই বিদেশ থেকে টাকা পাওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে সিজেপি।


