Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : প্রথম থেকেই এই বছরের বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম হেভিওয়েট কেন্দ্র হিসাবে বিবেচিত হয়েছে ভাঙড় (Bhangar)। এবার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের সেই ‘হেভিওয়েট’ লড়াইয়ের কারণেই এখানকার ভোটারদের জন্য অপেক্ষা করছে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। প্রতিটি বুথে এবার একটির বদলে দুটি EVM বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রের মধ্যে একমাত্র ভাঙড়েই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অনন্য সিদ্ধান্ত ভাঙড়ে
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের কোনও কেন্দ্রেই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদিও লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা দক্ষিণ ও যাদবপুর কেন্দ্রে একাধিক EVM ব্যবহারের নজির ছিল। এবার কোচবিহার দক্ষিণ বা করণদিঘির মতো কয়েকটি কেন্দ্রে একাধিক ইভিএমের সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এই কেন্দ্রগুলিতেও একটি ইভিএমই নির্ধারিত হয়। ফলে ভাঙড়ই (Bhangar) একমাত্র কেন্দ্র হিসেবে এই বিশেষ ব্যবস্থার সাক্ষী হতে চলেছে।
কেনো এই বিশেষ ব্যবস্থা ?
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একটি ইভিএম-এ সর্বাধিক ১৬টি বোতাম থাকে। এর মধ্যে ১৫টি প্রার্থীদের জন্য এবং একটি ‘NOTA’-র জন্য নির্ধারিত।কিন্তু ভাঙড় কেন্দ্রে এবারে মোট ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৭ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এবং ১২ জন নির্দল প্রার্থী। ফলে একটি ব্যালট ইউনিটে সব প্রার্থীর নাম রাখা সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়েই দ্বিতীয় ইভিএম যুক্ত করতে হচ্ছে কমিশনকে।
প্রশাসনের বাড়তি চাপ
এই সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও বেড়েছে। ভাঙড়ের ৩০৪টি বুথের জন্য আগে থেকেই ইভিএম ও ভিভিপ্যাড বরাদ্দ ছিল। এখন অতিরিক্ত ব্যালট ইউনিট সরবরাহ করতে হচ্ছে, যা খরচ বাড়াচ্ছে। এছাড়া ভোটকর্মীদের জন্য দুটি মেশিন বহন করা ঝুঁকিপূর্ণ ও শ্রমসাধ্য হয়ে উঠছে। শক্তিশালী কক্ষ (স্ট্রং রুম)-এ জায়গার অভাব মেটাতে মেশিনগুলো একটির ওপর আরেকটি রেখে সংরক্ষণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পাশাপাশি দুটি ইভিএম বসানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই সমীক্ষা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ভোটের দিন যাতে কোনও প্রযুক্তিগত বা অবকাঠামোগত সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ভাঙড়ের (Bhangar) এই পরিস্থিতি রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায় হিসেবে উঠে আসছে। প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিলেও, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবকাঠামো ও পরিচালনার চ্যালেঞ্জও স্পষ্ট হয়েছে। এখন নজর ভোটের দিনে এই বিশেষ বন্দোবস্ত কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং ভোটাররা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।


