Aaj India desk, কলকাতা: গতকাল বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর মসনদ হারিয়েছে তৃণমূল (TMC) । দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজ্যে ঘটেছে পালাবদল। পদ্ম ঝড়ে প্রায় উড়ে গেছে তারা। ২০১১ সালে ঠিক এভাবেই বামদুর্গ ধ্বংস করে ক্ষমতায় এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার। আর এভাবেই তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে বিরোধী দলের পার্টি অফিস ধ্বংস করার।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
২০১১ সালেও বামেদের পার্টি অফিস বেদখল হয়। অনেক জায়গায় কর্মীরা স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে তৃণমূলে(TMC)যোগ দেন।ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে বাম সংগঠন। একই কথা খাটে কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও। তৃণমূল গঠনের পর একঝাঁক নেতানেত্রী ও নিচুতলার কর্মী মমতার সঙ্গে যোগ দেন।ফলে কংগ্রেসের সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে। আজ এই দুই দলকেই বড়জোর ২-৩ টি আসন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। গতকাল তৃণমূলের(TMC)সাথেও সেই একই ব্যাপার হতে দেখা যায়। ভোটের ফল সম্পূর্ণ প্রকাশ হওয়ার আগেই অজস্র কর্মী ও সমর্থক গেরুয়া আবির নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। বিজেপির অভিযোগ এরাই তাণ্ডব চালিয়েছে বিজেপির নাম করে।
তৃণমূল কোন পথে?
২০১১ সালে যখন বাম সরকারের পতন হয় তখন তারা একেবারেই ব্যর্থ বলে চিহ্নিত। একদিকে সরকারি দপ্তরের বেহাল অবস্থা, অন্যদিকে শিল্পায়নের ক্ষত তাদের অপ্রাসঙ্গিক করে তুলেছিল। একই ভাবে কংগ্রেস বামেদের দীর্ঘ ৩৪ বছরের শাসনে বিরোধী দল হিসেবে থেকে ক্রমশ প্রাসঙ্গিকতা হারায়। সেই জায়গা নেয় তৃণমূল(TMC)। এখন তৃণমূল তার ক্ষমতা হারিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে তৃণমূলের ভবিষ্যত কি? তৃণমূলের বিরুদ্ধেও পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি এবং গুন্ডামির অভিযোগ জমা হয়েছে। প্রভাব পড়েছে ভোটবাক্সে। তারপরেই দলের নিচুতলার ভাঙন। মমতা এখন ৭৫ , আগের মতো লড়াই করার ক্ষমতা তাঁর নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে নেতৃত্ব থাকলেও তার আচরণে এবং রাজনীতিতে সন্তুষ্ট নন দলের অনেক নেতা। শুভেন্দু অধিকারীর মত অনেকেরই দল ছাড়ার অন্যতম কারণ অভিষেক , এমনটাই শোনা যায়। এই অবস্থায় তৃণমূলের (TMC) ভবিষ্যতও কি সাইনবোর্ড হওয়ার দিকেই যাচ্ছে? সে কথা সময় বলবে।


