Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুরে পরাজয়ের পর দীর্ঘদিন জনসমক্ষে বা দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায়নি প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রী ডা. শশী পাঁজাকে (Shashi Panja)। শনিবার বিকেলে হঠাৎ তাঁকে দেখা গেল প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে। এই সাক্ষাতের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে ১৪,৬৩৩ ভোটে পরাজিত হন ডা. শশী পাঁজা (Shashi Panja)। নির্বাচনের পর তাঁকে শ্যামপুকুরের রাজনৈতিক কর্মসূচি, দলীয় অনুষ্ঠান কিংবা জনসমক্ষে প্রায় দেখা যায়নি। সেই পরিস্থিতিতেই শনিবার তাঁর উপস্থিতি নজর কাড়ে দক্ষিণ কলকাতায় ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ‘ঘোষ দস্তিদার ইনস্টিটিউট অব ফার্টিলিটি রিসার্চ’-এ।
ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও ডা. শশী পাঁজা (Shashi Panja) দু’জনেই চিকিৎসক। বর্তমানে সক্রিয় চিকিৎসা পেশায় না থাকলেও কাকলির ক্লিনিকে শশী পাঁজার উপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শশী পাঁজা সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “শুধু ক্লিনিকে এসেছি।” এর বেশি কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য তিনি করেননি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সাক্ষাৎ শুধুই সৌজন্যমূলক, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ—তা নিয়েই আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়া প্রথম সারির নেতাদের অন্যতম ছিলেন। সেই কারণেই তাঁর সঙ্গে শশী পাঁজার সাক্ষাৎকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক তাৎপর্যের কথা স্বীকার করেনি।
একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং শশী পাঁজা। কাকলি ঘোষ দস্তিদার বঙ্গ জননী বাহিনীর সভাপতিও ছিলেন। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। এই প্রেক্ষাপটে শশী পাঁজার সাম্প্রতিক উপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর কেন্দ্রে বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তী পান ৬০,২৪৮ ভোট। অন্যদিকে, শশী পাঁজা পান ৪৫,৬১৫ ভোট। নির্বাচনের ফলের পর তাঁর সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। শনিবারের এই সাক্ষাৎ সেই আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


