Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) দেওয়া ভাষণ ঘিরে সরগরম জাতীয় রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মাঝে একবার থমকে যাওয়া থেকে শুরু করে ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্য—একাধিক বিষয় নিয়ে মোদীকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস (Congress) এবং আম আদমি পার্টি (AAP)।
ভারতের বায়োইকোনমি বা জৈব-অর্থনীতির অগ্রগতি নিয়ে বলতে গিয়ে একসময় মোদীকে কিছুটা থেমে যেতে দেখা যায়। সেই সময় তিনি কাগজের নোটও দেখেন। ওই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা কটাক্ষ করে লেখেন, “টেলিপ্রম্পটার ছাড়া সুপারহিউম্যান”। একই ভিডিও শেয়ার করে আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল মোদীকে ‘আত্মবিশ্বাসহীন, নার্ভাস এবং কাঁপতে থাকা প্রধানমন্ত্রী’ বলে আক্রমণ করেন।
এবারের স্বাধীনতা দিবসে মোদীর ভাষণের সময় ছিল প্রায় ৭৫ মিনিট। গত চার বছরের মধ্যে এটিই তাঁর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ। তবে সেই ভাষণে AI, সেমিকন্ডাক্টর, নকশালবাদ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা MSME, উচ্চশিক্ষা এবং কোচিং ব্যবস্থা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। এর আগে ২০২৩ সালে প্রায় ৯০ মিনিট ধরে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
ভাষণের অন্য একটি অংশ নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। মোদী বলেন, সশস্ত্র মাওবাদী হিংসা এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু দেশের কিছু প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এখনও আদর্শগত নকশাল মানসিকতা রয়েছে। তরুণদের অরাজকতার পথে যাওয়া আটকাতে এই ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তাঁর দাবি, ‘দিমাগি নকশাল’ আসলে বিজেপির পুরনো ‘আরবান নকশাল’ শব্দবন্ধেরই নতুন রূপ। জয়রাম রমেশ বলেন, “দুই বা তিন বছর আগে তিনি বিরোধীদের ‘আরবান নকশাল’ বলে ডাকতেন। সে সময়ে সংসদে প্রশ্ন উঠেছিল যে ‘আরবান নকশাল’-এর নির্দিষ্ট সংজ্ঞা কী? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাবে জানিয়েছিলেন যে ‘আরবান নকশাল’ বলে কোনও কিছুর অস্তিত্বই নেই এবং এর কোনও সংজ্ঞাও নেই। আর আজ প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লা থেকে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের জন্য ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দ ব্যবহার করছেন।”
কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে জয়রাম রমেশ আরও বলেন, বিরোধীরা কোনও দাবি তুললে প্রথমে তাদের আক্রমণ করা হয়। পরে সেই একই দাবি সরকার নিজেরাই গ্রহণ করে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জাতিভিত্তিক জনগণনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, একসময় জাতিভিত্তিক গণনার দাবিকে ‘আরবান নকশাল’ মানসিকতা বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল। অথচ পরে সরকার নিজেই জাতিভিত্তিক গণনার কথা ঘোষণা করেছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘ ১২ বছর পরেও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্যে নতুন কিছু দেখা গেল না।
নারী সংরক্ষণ আইন এবং ভবিষ্যতের লোকসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন নিয়েও কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছে। জয়রাম রমেশের অভিযোগ, এই বিষয়ে মোদী সরকারের অবস্থান ‘অসৎ ও কপট’। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরেই সংসদে সর্বসম্মতভাবে নারী সংরক্ষণ বিল পাস হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই আইন কার্যকর করা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। জয়রাম রমেশের দাবি, অনেক পরে ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল রাতে তড়িঘড়ি করে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
পাশাপাশি, রাজনীতিতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন জয়রাম রমেশ। তাঁর দাবি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সময়ে ৭৩ ও ৭৪ নম্বর সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনে মহিলাদের অংশগ্রহণের ভিত আরও শক্ত হয়েছিল। সেই ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে তিনি নারী প্রতিনিধিত্বের কৃতিত্ব কংগ্রেসের দিকেও টেনে আনেন।


