নয়াদিল্লি: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর এবার জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা? ইন্ডি জোটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বক্তব্য ঘিরে এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের দাবি, বৈঠকের শুরুতেই আবেগঘন সুরে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “ভোটে হারের পর আমি বাড়ি থেকে বেরোতে পারছি না। দয়া করে কিছু করুন।”
শুধু আর্জি নয়, বৈঠকে নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়েও সরব হন মমতা। বিজেপির বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচারী’ মনোভাবের অভিযোগ তুলে তিনি বিরোধী দলগুলিকে পথে নেমে আন্দোলনের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল তথাকথিত ‘ভোটচুরি’ ইস্যু এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা।
সূত্রের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করতে গিয়ে মমতা (Mamata Banerjee) বৈঠকের মঞ্চে তাঁকে “বিনাশ কুমার” বলে কটাক্ষ করেন। এর আগে প্রকাশ্য রাজনৈতিক পরিসরে মমতাকে জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে ‘ভ্যানিশ কুমার’ মন্তব্য করতেও দেখা গিয়েছে।
‘দিদি’র কাতর আবেদন, নাকি নতুন রাজনৈতিক কৌশল?
বাংলার নির্বাচনী ফলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ইন্ডি জোটের বৈঠকে সক্রিয় অংশগ্রহণকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশন-বিরোধী আন্দোলনের প্রশ্নটি সামনে থাকলেও তৃণমূল নেত্রীর বৃহত্তর লক্ষ্য হতে পারে জাতীয় বিরোধী রাজনীতির মঞ্চকে ব্যবহার করে বাংলায় তাঁর দলের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা।
বিশেষ নজরে রয়েছে কংগ্রেস। কারণ, ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী অতীতে পথে নেমে আন্দোলন করেছেন। এখন সেই একই ইস্যুতে মমতার সরব হওয়া বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাহুলের ইস্যুতেই এবার মমতার সুর?
‘ভোটচুরি’ নিয়ে কংগ্রেসের আন্দোলনের সময় তৃণমূলের অবস্থান নিয়ে অতীতে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তৃণমূলের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের আন্দোলন নিয়ে কটাক্ষও করা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে ছবিতে বদল এসেছে। এখন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিকে একসঙ্গে পথে নামার আহ্বান জানাচ্ছেন মমতা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, পুরনো দূরত্ব পেরিয়ে এবার কি কংগ্রেসকেই দিল্লির মঞ্চে প্রধান ভরসা করতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী?
বৈঠকে সোনিয়ার পাশে মমতা—বার্তা কি স্পষ্ট?
বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অবস্থান নিয়ে আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে। বিরোধী জোটের বৈঠকে সোনিয়া গান্ধীর পাশে তাঁর বসা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও বিরোধী জোটের বৃহত্তর পরিসরে মমতাকে পাশে রাখার বার্তাই কি এতে স্পষ্ট হল?
এখন দেখার, জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে মমতার দেওয়া আন্দোলনের ডাক বাস্তবে কতটা যৌথ কর্মসূচিতে রূপ নেয়। আর তার থেকেও বড় প্রশ্ন, দিল্লির মঞ্চে এই নতুন সক্রিয়তা কি বাংলায় তৃণমূলের পরবর্তী রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতির ইঙ্গিত? বুধবারের বৈঠক সেই প্রশ্নই আরও জোরালো করে তুলেছে।


