Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোনারপুরে (Sonarpur) গণপিটুনির (Public Beating) ঘটনায় মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। মৃতের নাম গোপাল হালদার। বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারপুর থানার কামরাবাদ ফুলের হাটের আম্বেদকর নগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, গোপাল হালদার-সহ তিনজন একটি বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র (Firearm) নিয়ে ঢুকে হামলা চালান। বাড়ির ভিতর থেকে চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা সেখানে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের দেখতে পেয়েই গোপালের সঙ্গে থাকা দু’জন সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
এরপর স্থানীয়দের একাংশ গোপালকে ধরে ফেলেন। তাঁকে ঘিরে শুরু হয় মারধর। বেধড়ক পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। পরে তাঁকে সুভাষগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার সঙ্গে কয়েক বছর আগের একটি খুনের ঘটনাও সামনে এসেছে। বাড়ির মালিক কেবো হাজরার দাবি, কয়েক বছর আগে তাঁর ছেলে লাল্টু হাজরাকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, সেই খুনের মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় গোপাল হালদারের নাম ছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকায় পৌঁছয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় গণপ্রহারের অভিযোগে একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। চুরি, ছিনতাই, হামলা বা সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ উঠলেই কোথাও কোথাও স্থানীয়দের একাংশ নিজেরাই অভিযুক্তকে ধরে মারধর করছেন বলে অভিযোগ। এমন ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়া থেকে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের। সন্দেহের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার নেই।


