Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: এসআইআর (SIR)-এর সময় বা পরে ভোটার তালিকা (Voter List) থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। একইসঙ্গে নতুন ভোটার, বিশেষ করে তরুণ ও প্রথমবার ভোট দিতে চলা নাগরিকদের নামও দ্রুত তালিকায় তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে SIR চলাকালীন ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-র তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম উঠেছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে ৩২ লক্ষেরও বেশি নাম ভোটার তালিকায় ফিরে আসে। তবে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ থেকে যায়।
দেশের ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই SIR প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এবার ওই রাজ্যগুলিতে SIR-এর সময় বা পরে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ফের ভোটার তালিকায় নাম তোলার ব্যবস্থা করতে বলেছে কমিশন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও বিষয়টি ফের জানানো হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ধারাবাহিক ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম ফের নথিভুক্ত করতে হবে। যেসব রাজ্যে SIR শেষ হয়েছে, সেখানে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সাধারণ Form 6 ব্যবহার করা যাবে।
এছাড়াও SIR-এর আগে ও পরে তৈরি হওয়া ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এমন ভোটারদের চিহ্নিত করা হবে, যাঁদের কোনও উপযুক্ত কারণ ছাড়াই তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের নাম অন্য কোনও জায়গায় ম্যাপ করা হয়নি এবং যাঁরা ডুপ্লিকেট বা মৃত ভোটার—এমন কোনও প্রমাণও নেই, তাঁদের বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে বুথ লেভেল অফিসাররা ভোটারদের Form 6 পূরণ করতে সাহায্য করবেন। এই কাজে রাজনৈতিক দল এবং তাদের বুথ লেভেল এজেন্টদের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কমিশন।
গোয়ার একটি ঘটনাতেও এই প্রক্রিয়ার উদাহরণ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে ৯৭ জন ভোটারের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় ফর্ম সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বুথ লেভেল অফিসারদের। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮১ জন Form 6 পূরণ করেছিলেন। পরে কমিশন জানায়, মোট ৯৭ জনের মধ্যে ৮৮ জন Form 6-এর আবেদন জমা দিয়েছেন। বাকি ৯ জনের মধ্যে ৩ জনের পর্তুগিজ পাসপোর্ট রয়েছে এবং ৬ জন ভারতের বাইরে থাকেন বলে জানা গিয়েছে।
কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে, ‘আনম্যাপড’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-র কারণে নোটিস পাওয়া প্রত্যেক ভোটারকে ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনী আধিকারিকের সামনে হাজির হতে হবে না। বুথ লেভেল অফিসাররা প্রয়োজনে তাঁদের বাড়ি থেকেই প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে ECINET সিস্টেমে আপলোড করতে পারবেন। এরপর ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার সেই নথি যাচাই করবেন। শুধুমাত্র বিশেষ বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই ব্যক্তিগত শুনানির প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।


