31 C
Kolkata
Wednesday, September 2, 2026
spot_img

‘লন্ডন থেকে বললে ক্ষতি নেই, দিল্লি থেকে বললেই আপত্তি?’-তারেকের ভারত সফর নিয়ে এবার মুখ খুললেন হাসিনা

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ৫ অগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) সাংবাদিক সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) ভারত সফর নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, দিল্লির (Delhi) ওই অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেননি। বরং দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তার কথাই তুলে ধরেছিলেন। তাই তাঁর বক্তব্যকে ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে দেখার কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না।

সম্প্রতি তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকার তরফে কিছুটা অনিশ্চয়তার কথা জানানো হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ে তুলনামূলক ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়। দিল্লিতে আওয়ামী লিগের নেতাদের উপস্থিতিতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। সেই সম্মেলনের জন্য পুলিশ অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ঢাকা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, তাঁরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। একইসঙ্গে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী বার্তা দেন তিনি। তাঁর কথায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফরে যাবেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার ভারতের একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে শেখ হাসিনার একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার। সেখানেই তারেক রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তাঁর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লিগ নেত্রী।

শেখ হাসিনার দাবি, ২০০৭ সালে বাংলাদেশে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকার সময় তারেক রহমান রাজনীতি করবেন না বলে মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন। পরে লন্ডনে গিয়ে তিনি ফের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। বিদেশে থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও লন্ডন থেকেই বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন বলে দাবি হাসিনার। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলীয় বৈঠক এবং জনসভাতেও তিনি অংশ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

এই প্রসঙ্গেই শেখ হাসিনার প্রশ্ন, তাঁর সরকার কখনও তারেক রহমানের বিদেশে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে অভিযোগ করেনি। অথচ তিনি দিল্লি থেকে বক্তব্য রাখলেই কেন এত আপত্তি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। হাসিনার বক্তব্য, ‘অথচ আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই যত আপত্তি।’ তাঁর মতে, দিল্লিতে তাঁর সাংবাদিক সম্মেলনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে জুড়ে দেখা ঠিক নয়। এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কাম্য নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত সত্য এবং পারস্পরিক আস্থার উপর। গণতন্ত্র বিপন্ন হলে দুই দেশের সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এদিকে বাংলাদেশে নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়েও সরব হয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, তিনি ক্ষমতায় ফেরার জন্য দেশে যেতে চান না। বরং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতেই ফিরতে চান। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হাসিনার অভিযোগ, আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতন চলছে। তাঁদের বাড়িতে হামলা করা হচ্ছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির জন্য প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস এবং পরে বিএনপিকে দায়ী করেছেন তিনি।

রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ড এবং বগুড়ায় আওয়ামী লিগের যুব শাখার এক সদস্যকে হত্যার ঘটনাও সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, দলের নেতা-কর্মীদের উপর নিয়মিত হামলা ও নির্যাতন চলছে। এমনকি বাড়িতে ঢুকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে হামলা এবং বয়স্কদেরও হেনস্থার অভিযোগ করেছেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁর প্রত্যর্পণকে শর্ত হিসেবে দেখানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার কথায়, তিনি নিজের দেশে ফিরতে চান নিজের ইচ্ছাতেই। তারেক রহমানের সরকার কেন তাঁর দেশে ফেরার বিরোধিতা করছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও তাঁর বক্তব্য, তিনি সারা জীবন বিদেশে থাকতে পারবেন না। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নিজের দেশে এবং নিজের মানুষের কাছে তাঁকে ফিরতেই হবে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন