Aaj India Desk,নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের বিদ্রোহী নেতাদের ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগদান ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শান্তনু দে (Shantanu De) অভিযোগ করেছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি।
শান্তনু দে (Shantanu De) জানান, ২০২২ সালে মানুষের অধিকার রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা শুরু হয়। প্রথমে দলের নাম ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI) নামে নিবন্ধিত হয়।
দল গঠনের পর তিনি ‘ন্যাশনাল অর্গানাইজিং সেক্রেটারি’-র দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ত্রিপুরার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে দলের সংগঠন গড়ে তোলেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক চাপে চারটি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। নানা বাধা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এনসিপিআই।
সম্প্রতি তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিক্ষুব্ধ সদস্যকে দলে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শান্তনু দে। তাঁর অভিযোগ, দলের প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্ধকারে রেখে দল পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।
শান্তনু দে বলেন, “আমাদের না জানিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে বা অন্য কোনও স্বার্থে দলকে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।”
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে কোনও সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে, তৃণমূলের বিদ্রোহীদের যোগদান নিয়ে দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কর্মীদের আশঙ্কা, এতে দলের আদর্শ ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে শান্তনু দে জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থ ও মানুষের অধিকার রক্ষার শর্তে বিদ্রোহী নেতাদের দলে নেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাঁদের আগে সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে সব শর্ত মেনে নিতে হবে।
বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রতি আপাতত আশাবাদী এনসিপিআই। তবে মানুষের স্বার্থ রক্ষা না হলে ভবিষ্যতে রাজপথে নেমে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা।


