Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্য সরকারি কর্মীদের বদলির ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন (Nabanna)। সচিবালয়ে (Secretariat) কর্মরত কোনও কর্মীকে সরাসরি ডিরেক্টরেট (Directorate) কিংবা আঞ্চলিক কার্যালয়ে (Regional Office) পাঠানোর ক্ষেত্রে এবার থেকে সংশ্লিষ্ট দফতর নিজের সিদ্ধান্তে বদলি কার্যকর করতে পারবে না। এই ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের (Personnel and Administrative Reforms Department) অনুমোদন নিতে হবে। সম্প্রতি জারি হওয়া নির্দেশিকায় এই শর্তের কথা স্পষ্ট করা হয়েছে।
সচিবালয়ের কর্মীদের বদলিতে কী নিয়ম চালু হল?
সচিবালয়ে কর্মরত সরকারি কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কমন ক্যাডার ব্যবস্থা (Common Cadre System) চালু রয়েছে। নিম্নবর্গের সহকারী (Lower Division Assistant বা LDA) থেকে শুরু করে উচ্চতর পদে কর্মরত কর্মীরাও এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত তাঁদের সচিবালয়ের একটি দফতর থেকে অন্য দফতরে বদলি করা হয়।
তবে এবার সচিবালয়ের বাইরে অন্য প্রশাসনিক কার্যালয়ে কর্মীদের পাঠানোর ক্ষেত্রে অনুমোদনের নিয়ম আরও স্পষ্ট করে দিল রাজ্য সরকার। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দফতরকে প্রথমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বদলির প্রস্তাব পাঠাতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা যাবে।
আগে জেলা ও ব্লক অফিসেও পাঠানো হয়েছিল কর্মীদের
অতীতে ডিটেলমেন্ট (Detachment) প্রক্রিয়ায় সচিবালয়ের কিছু কর্মীকে জেলা ও ব্লক স্তরের সরকারি কার্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কর্মস্থল পরিবর্তন হলেও তাঁদের বেতন সচিবালয় থেকেই দেওয়া হত।
এই ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন আপত্তি তুলেছিল। সংগঠনগুলির একাংশের অভিযোগ ছিল, কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রয়োজনের বদলে রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে কর্মীদের দূরবর্তী এলাকায় পাঠানো হয়েছিল। কলকাতা (Kolkata) থেকে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের ব্লক অফিসে কর্মী পাঠানোর ঘটনাও সেই সময় আলোচনায় এসেছিল। যদিও এই অভিযোগগুলি কর্মী সংগঠনগুলির বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য।
নতুন নির্দেশিকায় কী বদলাবে?
নতুন নিয়মের ফলে সচিবালয়ের কর্মীদের ডিরেক্টরেট, জেলা কিংবা আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দফতর আর এককভাবে এই ধরনের বদলির সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারবে না। প্রশাসনিক স্তরে এই নির্দেশিকা কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।


