নয়াদিল্লি: সামনেই বিধানসভা ভোট। গণতন্ত্রের উৎসবের কথা মাথায় রেখে সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল ডিএ (DA) মামলার শুনানি। শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানিতে আজ রাজ্যের তরফে সওয়াল করে কপিল সিব্বল জানান, বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার কমিটির নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ডিএ বাবদ বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা সরকারি কর্মীদের দেওয়া হয়েছে।
যাঁদের নাম সরকারি কর্মী হিসেবে নথিভুক্ত ছিল, তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছেছে বলে দাবী করা হয়। বাকি প্রাপকদেরও ধাপে ধাপে অর্থ মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেয় রাজ্য। তবে আসন্ন ভোটের কারণে প্রথম কিস্তির পুরো অর্থ এখনও দেওয়া সম্ভব হয়নি, এজন্য আদালতের কাছে আরও সময় চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি কর্মীদের একাংশ এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে অভিযোগ করেছেন, আদালতে পেশ করা রাজ্যের বক্তব্য বাস্তবের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তাঁদের দাবি, এখনও বহু কর্মী ও পেনশনার ডিএ (DA) পাননি, ফলে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তাঁরা। কবে বকেয়া ডিএ তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা হবে, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্টতা নেই।
পাশাপাশি, ডিএ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের আইনি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা কর্মীদের মতে আইনবিরোধী। রাজ্য সরকারের বিরিদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে এক সরকারি কর্মচারী বলেন, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও টালবাহানা করছে রাজ্য! এটা সুপ্রিম কোর্টকে বুড়ো আঙুল দেখানো! এই বিলম্ব আসলে ডিএ (DA) না দেওয়ার ফিকির!
পাশাপাশি, সরকারি কর্মচারী সংগঠনের এক নেতা দাবি করেছেন, মামলার শুরুর দিকে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল যে বকেয়া ডিএ মেটাতে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হচ্ছে। এর থেকেই সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে তাঁর মন্তব্য। ফলত, শীর্ষ আদালতের কাছ থেকে আশ্বাস পেলেও রাজ্য সরকারের উপর থেকে ডিএ (DA) নিয়ে ধীরে ধীরে যে বিশ্বাস উঠতে শুরু রাজ্যের একাংশ সরকারি কর্মচারীদের, তা বলাই বাহুল্য।


