নয়াদিল্লি: ট্রেন বন্ধ, মেট্রো বন্ধ, ইন্টারনেটেও তালা! রাস্তায় নামলেই আটক, বিক্ষোভ (CJP Protest) দেখাতে গিয়ে গ্রেফতারিও। আর এই সবকিছুর পিছনে একজনকে বাঁচানোর চেষ্টা? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর দাবি, জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) রক্ষা করতেই সাধারণ আন্দোলনকারী থেকে শুরু করে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে এমন কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদ (CJP Protest), আর তার মোকাবিলায় আটক ও গ্রেফতারি, এই পরিস্থিতি ঘিরেই নতুন করে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ। তাঁর অভিযোগ, একজন ব্যক্তিকে রক্ষা করতে গিয়ে দেশের মানুষের প্রতিবাদের অধিকারই কার্যত কোণঠাসা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে অভিজিতের পাশে ছিলেন AISA নেত্রী নেহা বোরা এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজ। তিনজনেরই অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে আন্দোলনকারীদের আটক করার পিছনে রয়েছে তাঁকে রক্ষা করার উদ্দেশ্য।
অভিজিতের বক্তব্য, ছাত্র সংগঠন থেকে শুরু করে দিল্লির তরুণরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ (CJP Protest) জানাচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের টেনে-হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছে। নেহা বোরা, ঐশী-সহ একাধিক প্রতিবাদীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
কিন্তু কেন এত ধরপাকড়? অভিজিতের অভিযোগ, এর পিছনে রয়েছে জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করার চেষ্টা। তাঁর বক্তব্য, “কার জন্য? জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) রক্ষা করতে।” এই প্রশ্ন তুলেই মোদী ও শাহের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি।
বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে বিরোধী নেতাদের আটক করার ঘটনা। অভিজিতের দাবি, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালদেরও আটক করা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, প্রতিবাদ দমন করতে গিয়ে কেন রেল পরিষেবা, মেট্রো পরিষেবা ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ করতে হল?
অভিজিতের অভিযোগ, একজন নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার অর্থই হল, প্রতিবাদের কণ্ঠস্বরকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও এগুলি তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ; কেন্দ্রের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এই দাবিগুলি স্বতন্ত্রভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।
এদিকে, জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন CJP নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, অজিঙ্ক শিন্ডে এবং সৌরভ দাস। জাতীয় পতাকা হাতে পাঁচিল টপকে যন্তর মন্তরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। এরপর তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। সৌরভ ও আশুতোষকে তিহাড় জেলে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন (CJP Protest) কি এবার কেন্দ্র- বিরোধী সংঘাতের আরও বড় মঞ্চ হয়ে উঠছে? একদিকে নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে প্রতিবাদ, অন্যদিকে আটক ও গ্রেফতারি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তার মধ্যেই মোদী-শাহের বিরুদ্ধে ‘নিজের দেশের মানুষের সঙ্গেই যুদ্ধ’ করার অভিযোগ তুলে আগুনে ঘি ঢেলেছেন অভিজিৎ দীপকে।
একজনকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন প্রতিবাদের অধিকার, বিরোধী রাজনীতি এবং কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্নের মুখে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার।


