Aaj India Desk, কলকাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে একদিনেই বদলে গেল ভোটের সমীকরণ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার পর নন্দীগ্রামে নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। এরপরই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে (Milan Pradhan) ২০০৭ সালের পুরনো মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মমতা কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই গ্রেফতারি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
মমতার সমর্থনের পরেই গ্রেপ্তার মিলন
শুক্রবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। তার আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। সঞ্চিতার প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নন্দীগ্রামে তাঁর শিবির আর নতুন প্রার্থী দেবে না। পরিবর্তে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে (Milan Pradhan) সমর্থন করা হবে।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের একটি বেসরকারি হোটেল থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেখানে প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস ভট্টাচার্যও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁকেও আটক করা হয় বলে কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে। মিলনের খোঁজে পরে নন্দীগ্রাম থানায় যান কংগ্রেস নেতারা। এরপর তাঁরা চণ্ডীপুর থানায় যান। রাতের দিকে সেখানে পৌঁছন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও।
কী অভিযোগ রয়েছে মিলনের বিরুদ্ধে?
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সময়কার একাধিক মামলায় অভিযুক্ত মিলন প্রধান (Milan Pradhan)। এর মধ্যে খুন, খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের দাবি, ভোটের আগে পুরনো মামলায় যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মিলনের গ্রেফতারির সঙ্গে উপনির্বাচনে তাঁর প্রার্থীপদের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁকে শনিবার হলদিয়া মহকুমা আদালতে তোলার কথা।
উল্লেখ্য, মমতার সমর্থন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতারির ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। দলের নেতাদের অভিযোগ, উপনির্বাচনের আগে বিরোধী প্রার্থীকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকেও গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফলে জনমানসেও এখন প্রশ্ন উঠছে, পুরনো মামলায় পুলিশের এই পদক্ষেপ কি শুধুই আইনি প্রক্রিয়া, নাকি রাজনৈতিক কারণেই আটক মিলন প্রধান?


