Aaj India Desk, কলকাতা: সিদ্ধান্তটা কি চূড়ান্ত ছিল? নাকি শেষ মুহূর্তে বদলে গেল গোটা অঙ্ক? সকালবেলায় প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)র সঙ্গে কথা। আর তার পরেই আচমকা সিদ্ধান্ত বদল! রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই পাল্টে গেল ছবিটা। রবিউল আলম চৌধুরী আর সরে দাঁড়াচ্ছেন না। তিনি ফের ভোটের ময়দানে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। রবিউলের ইউটার্নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে গেল কুণাল ঘোষের ফেসবুক বার্তাও। আগে বিস্ফোরক আত্মসমালোচনা, পরে সেই পোস্টই ডিলিট! তারপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট শেয়ার। পরপর এই ঘটনাতেই এখন প্রশ্নের মুখে তৃণমূলের উপনির্বাচনী কৌশল।
কয়েক ঘণ্টাতেই বদলে গেল সিদ্ধান্ত
রেজিনগরে তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী প্রথমে জানিয়েছিলেন, তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করবেন। কিন্তু পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। সেই আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত বদল করেন রবিউল। জানান, তিনি নির্বাচনে লড়াই চালিয়ে যাবেন। অর্থাৎ, যে সিদ্ধান্তকে ঘিরে সকাল থেকে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি সামনে এল।
তার আগেই কুণালের বিস্ফোরক পোস্ট
রবিউলের ইউটার্নের আগে দলের কৌশল নিয়ে সরব হয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের নাম ও ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ করার পর দলের উপনির্বাচনী সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
কুণালের বক্তব্যে ছিল স্পষ্ট আত্মসমালোচনার সুর। তাঁর দাবি, শুধু বিজেপি বা শুভেন্দু অধিকারীকে দায়ী করলে বর্তমান পরিস্থিতির পুরো দায় এড়ানো যাবে না। দলের নিজেদের কৌশলগত ভুলও খতিয়ে দেখা দরকার।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিকল্প প্রতীকে উপনির্বাচনে না লড়ার প্রাথমিক পরিকল্পনাই ছিল। কিন্তু পরে সেই অবস্থান বদলে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তাঁর মতে, সেখান থেকেই তৈরি হয় নতুন জটিলতা।
নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-কে নিয়েও কুণাল প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, সংগঠনকে আগে গুছিয়ে না নিয়ে দ্রুত প্রার্থী ঘোষণা করা ঠিক হয়নি। রেজিনগর নিয়েও আগাম সতর্কতা প্রয়োজন ছিল বলে জানান তিনি।
তারপরই আরও বড় টুইস্ট
কুণালের ওই পোস্ট নিয়েই যখন চর্চা তুঙ্গে, তখন সেটিই আর দেখা গেল না। পোস্ট মুছে দেন কুণাল। পরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পোস্ট শেয়ার করেন তিনি। সেই পোস্টে জানানো হয়, রবিউল আলম চৌধুরী সিদ্ধান্ত বদলে ফের ভোটে লড়ছেন।
ফলে একদিকে রবিউলের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার থেকে ফের লড়াইয়ে ফেরা, অন্যদিকে কুণালের বিস্ফোরক পোস্ট মুছে নতুন বার্তা রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের অন্দরের ঘটনাপ্রবাহে আপাতত একের পর এক নতুন মোড়।


