কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) সাম্প্রতিক SFI-ABVP ছাত্রসংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক রাজনৈতিক নেতার মন্তব্যে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) যাদবপুরকে ‘আইল্যান্ড’-এর সঙ্গে তুলনা করে অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের একাংশের আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেশের সংবিধান ও রীতি-নীতি মানা হয় না বলে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, যাদবপুরে (Jadavpur University) যে ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি চলছে তার পরিবর্তন প্রয়োজন। JNU-এর প্রসঙ্গ টেনে তাঁর বক্তব্য, সেখানেও পরিবর্তন এসেছে এবং যাদবপুরেও পরিবর্তন হবে।
পাশাপাশি, BJP-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, যাদবপুরের (Jadavpur University) ঘটনায় BJP সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না এবং ABVP-কে BJP-র ছাত্র সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করতেও তিনি অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরীকে ঘিরে ‘তাণ্ডব চলবে’ মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যকে উস্কানিমূলক হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ছাত্রদের রাজনৈতিক দলের উস্কানি থেকে দূরে থাকার আবেদন জানিয়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অবস্থানও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।
এদিকে, বুধবার রাতের ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশেষে যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাত ১২টার পর কয়েকজন বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) প্রবেশ করে। ১ নম্বর গেটের CCTV ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং অরবিন্দ ভবনের কোলাপসেবল গেটের সামনে আগুন ধরানোর চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ভাঙচুরের অভিযোগও FIR-এ উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পর অভিযোগ দায়ের হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যেই ৪ নম্বর গেটের ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহ্যবাহী প্রতীকটি মেরামত করে ফের যথাস্থানে বসানো হয়েছে। শুক্রবার বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাক এবং প্রাক্তনীদের অংশগ্রহণে ঘটনার প্রতিবাদে মিছিলও হয়।
সব মিলিয়ে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এখন শুধু ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা বা ছাত্ররাজনীতির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই! তা ক্রমেই বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। তবে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগগুলির প্রকৃত সত্যতা তদন্তের ফলেই স্পষ্ট হবে।


