Aaj India Desk, কোচবিহার: আজ, ১ আগস্ট থেকে রাজ্যের স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল (Mid Day Meal) প্রকল্পে বড় পরিবর্তনের সূচনা হল। কলকাতার সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের জন্য রান্না ও খাবার সরবরাহের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করল ইসকন (ISKON)। প্রথম দিনেই প্রায় ৪৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর হাতে পুষ্টিকর খাবার তুলে দেওয়া হবে।
এই কর্মসূচির উদ্বোধন মঞ্চ থেকেই মিড ডে মিল নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যাঁরা এতদিন এই উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা করেছেন, আশা করি আজ অন্তত কিছুটা সংযত থাকবেন। সমালোচনার বদলে এই কাজের ভালো দিকটাও দেখুন। কারও মনে যদি হিংসা বা বিরূপ মনোভাব থেকেও থাকে, অন্তত আজকের জন্য সেটাকে সংবরণ করুন— বিরোধীদের কাছে এটাই আমার অনুরোধ।”
মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের একাংশের আগের প্রতিবাদের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তখন তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই কোনও পাল্টা মন্তব্য করেননি। তাঁর কথায়, “দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি দুটি জিনিস শিখেছি— ধৈর্য আর সহ্য। তাই সব পরিস্থিতির উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দেওয়াই আমার অভ্যাস নয়।”
১ আগস্ট থেকেই কলকাতার স্কুলগুলিতে ইসকনের মাধ্যমে মিড ডে মিল সরবরাহ শুরু হয়েছে। শুরুতে জানানো হয়েছিল, সংস্থার পক্ষ থেকে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হবে। তবে পড়ুয়াদের পুষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন, ইসকনের খাবারের পাশাপাশি আলাদা করে ডিমও দেওয়া হবে।
এবার সেই ঘোষণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মিড ডে মিলে শুধু ডিম নয়, মাছ দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।
কোচবিহারে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত একেবারেই সময়োপযোগী। যারা এতদিন প্রচার করছিল যে নিরামিষ খাবার দিলে পড়ুয়াদের প্রোটিনের ঘাটতি হবে, তাদের সেই অভিযোগের আর কোনও ভিত্তি থাকছে না। শুধু ডিমে থেমে থাকার প্রশ্নই নেই, আগামী দিনে মিড ডে মিলের মেনুতে মাছও যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তবে কবে থেকে মাছ দেওয়া শুরু হবে বা ইসকনের নিরামিষ রান্নার পাশাপাশি মাছ রান্না ও বিতরণের দায়িত্ব কারা নেবেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এর আগে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ইসকনের মাধ্যমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে মিড ডে মিল চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে আলাদা করে ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে এক বা দু’দিন পড়ুয়াদের এই ডিম দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাজ্যের ৮০ হাজার ৩৭৫টি সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলের উদ্দেশে ২৯৬ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রোটিনের ব্যবস্থা করে পড়ুয়াদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।


