30 C
Kolkata
Tuesday, August 25, 2026
spot_img

‘বাড়ি বানাতেই যদি এত সময় লাগে, সরকারকে ১১০ দিনে বিচার কেন?’ ৫ লক্ষ্য জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

Aaj India Desk, কলকাতা: একটি বাড়ি তৈরি করতে জমি কেনা থেকে শুরু করে গৃহপ্রবেশ পর্যন্ত অনেকটা সময় লেগে যায়। কোথাও সেই সময় এক বছরেরও বেশি। তাহলে মাত্র ১১০ দিনের কাজ দেখে একটি সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতার চূড়ান্ত বিচার কীভাবে সম্ভব? এই প্রশ্নই তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম ১০০ বা ১১০ দিনের কাজের জন্য এখনই তিনি কোনও কৃতিত্ব নিতে চান না। একইভাবে ব্যর্থতার দায়ও এখনই নিতে রাজি নন। তাঁর মতে, সরকারের কাজের প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য অন্তত এক বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন।

বাড়ি তৈরির উদাহরণ

সরকারের কাজ বোঝাতে গিয়ে বাড়ি তৈরির উদাহরণ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, একটি বাড়ি তৈরি করতে প্রথমে জমি কিনতে হয়। এরপর জমির বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়া, মিউটেশন, রেকর্ড সংশোধন, নকশা অনুমোদন-সহ একাধিক ধাপ পেরোতে হয়। তারপর শুরু হয় আসল নির্মাণকাজ। বর্ষা বা অন্য কারণে সেই কাজেও অনেক সময় বাধা আসে। সবশেষে প্লাস্টার, দরজা-জানালা, আসবাবপত্রের কাজ শেষ করে গৃহপ্রবেশ করা যায়। শুভেন্দুর কথায়, একটি বাড়ি তৈরি করতেই যদি এত সময় লাগে, তাহলে মাত্র ১১০ দিনে একটি সরকারের কাজের পূর্ণ মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।

‘এক বছর পর পরীক্ষায় বসব’

প্রথম ১০০ দিনের কাজ নিয়ে এখনই সাফল্যের দাবি করতে চান না মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি এখন ক্রেডিট বা ডিসক্রেডিট—কোনওটাই নিতে রাজি নই। পরীক্ষায় যদি বসতেই হয়, এক বছর পরে বসব।”

স্কুলের পরীক্ষার সঙ্গেও সরকারের কাজের তুলনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বছরের শুরুতে কোনও পড়ুয়া স্কুলে ভর্তি হলে তার চূড়ান্ত মূল্যায়ন বছরের শেষে হয়। একইভাবে সরকারের ক্ষেত্রেও এক বছর কাজ করার পর তার ফলাফল বিচার করা উচিত। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এক বছর পর আমি যে কোনও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে রাজি আছি।” তাঁর লক্ষ্য, বেশি কথা না বলে কাজের মাধ্যমে নিজের পরিচয় তৈরি করা।

সরকারের সামনে ৫টি বড় লক্ষ্য

আগামী দিনে তাঁর সরকারের প্রধান পাঁচটি লক্ষ্য কী হবে, তাও এদিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রথমত, রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

দ্বিতীয়ত, সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।

তৃতীয়, লক্ষ্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি কার্যকর করা।

চতুর্থত, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়ন করা এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা।

পঞ্চম লক্ষ্য হল শিল্প ও ব্যবসার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে কর্মসংস্থান বাড়ানো।

এই কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে তিনটি দিককে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। সরকারি দফতরের শূন্যপদে নিয়োগ, শিল্পক্ষেত্রে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি এবং নিজের ব্যবসা বা উদ্যোগ শুরু করতে ইচ্ছুকদের সরকারি সহায়তা—এই তিন পথেই কর্মসংস্থান বাড়াতে চায় সরকার। ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহীদের ব্যাঙ্ক ঋণ, বিভিন্ন সহায়ক প্রকল্প এবং সহজ প্রশাসনিক পরিষেবা দেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ত্রিমুখী কর্মসংস্থানই আমাদের লক্ষ্য।”

সব মিলিয়ে প্রথম ১০০ দিনের কাজকে সরকারের চূড়ান্ত সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখতে নারাজ শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এখনই ফল নয়, আগামী এক বছরে কাজের মাধ্যমেই সরকারের আসল পরিচয় তৈরি হবে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন