কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) সংঘর্ষের ঘটনায় এক সপ্তাহ পর তদন্তে বড় তৎপরতা পুলিশের। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ (এসিপি) মনোজ কুমার ঝা (Manoj Kumar Jha)। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। মূল আলোচনার বিষয়, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সংঘর্ষের দিনগুলির নির্দিষ্ট কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) নিয়ম মেনেই সেই ফুটেজ তদন্তকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এসিপি ও রেজিস্ট্রারের মধ্যে।
রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল জানান, কিছু বিষয় তদন্তের স্বার্থে গোপনীয়। তবে পুলিশ যে ফুটেজ চেয়েছে, তা সংগ্রহের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উপাচার্য অসুস্থ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তিনিই পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন।
কী ঘটেছিল যাদবপুরে?
গত ১৯ আগস্ট ফেটসুর জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, পতাকা পোড়ানো, রাতভর অশান্তি! সব মিলিয়ে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ক্যাম্পাস। পরদিনও দুই পক্ষের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। সংঘর্ষের মাঝেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম, যা নিয়ে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর নতুন মোড়
সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সিএমও-র কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) আর্টস হস্টেলের কিছু ভিডিও এসেছে, যেখানে আপত্তিকর ও দেশবিরোধী স্লোগান দেখা গিয়েছে। পরে তাঁর এক্স হ্যান্ডেল থেকেও সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা হয়। তার ঠিক পরদিনই ক্যাম্পাসে গিয়ে তদন্ত শুরু করলেন এসিপি মনোজ কুমার ঝা।
এদিকে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় যাদবপুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) সকলের কাছে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “শিক্ষা ও উৎকর্ষের পীঠস্থান হিসেবে যাদবপুরের মর্যাদা অটুট রাখতে হলে ক্যাম্পাসে শান্তি ফিরতেই হবে। উটকো অশান্তির কারণে গোটা বিশ্বের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বদনাম হোক, তা আমরা চাই না।”
এখন নজর সিসিটিভি ফুটেজের দিকে। সংঘর্ষের নেপথ্যে কারা ছিল, কীভাবে ছড়াল অশান্তি? তার উত্তর খুঁজতেই তদন্তে গতি বাড়াল কলকাতা পুলিশ।


