Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূলের (TMC) একাধিক বিধায়কের সই (Sign) নিয়ে এবার বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sobhandev Chattopadhyay) নাম সমর্থন করে যে রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে কয়েকজন বিধায়কের সই নাকি জাল করা হয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্তেই বৃহস্পতিবার থেকে একের পর এক বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছচ্ছে সিআইডি (CID)। সঙ্গে থাকছেন হ্যান্ডরাইটিং বিশেষজ্ঞও।
বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহরুল ইসলামের বাড়িতে যায় সিআইডি। শুক্রবার সকালে বোলপুরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতেও পৌঁছয় তদন্তকারী দল। জানা গিয়েছে, তৃণমূলের তরফে ৭০ জন বিধায়কের সই নিয়ে একটি রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেন, ওই কাগজে তাঁরা নিজেরা সই করেননি। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক।
নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটা বিধানসভার কোনও সরকারি নথি ছিল না, দলীয় কাগজ ছিল। তাঁর দাবি, কাগজে জায়গা না থাকায় তিনি সই করেননি। তিনি আরও বলেন, সই না করলে যে সিআইডি বাড়ি পর্যন্ত চলে আসবে, তা তিনি ভাবেননি। পরেরবার থেকে সতর্ক থাকবেন তিনি।অন্যদিকে, বাহরুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেদিন সই করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেদিন তিনি বাড়ি থেকেই বের হননি। তাঁর কথায়, এলাকায় অশান্তি চলছিল বলেই বাইরে যাননি। তিনি বলেন “আমি তো সই করিনি। দল একবার আমাকে জানাতে পারত। সইটা কে করল! ভূত করল! আমি সই করতে চাই কি না, জানতেও চাওয়া হয়নি।”
এই বিষয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, তিনি এই মুহূর্তে বাড়িতে নেই। তবে আগামী দু থেকে তিন দিনের মধ্যেই তিনি সিআইডির মুখোমুখি হবেন। এবং তিনি এও বলেন যে আগে থেকে জানানো হলে তিনি হয়তো বাড়িতে উপস্থিত থাকতে পারতেন।ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতির বাড়িতেও তদন্তে গিয়েছে সিআইডি। এছাড়াও বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতেও একই অভিযোগ নিয়ে পৌঁছে গিয়েছে সিআইডি।
জাল সইয়ের অভিযোগে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর প্রথমে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। পরে হ্যান্ডরাইটিং বিশেষজ্ঞ থাকায় তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে তৃণমূল এই সমস্ত অভিযোগ মানতে নারাজ। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বিধায়কদের ভয় দেখাতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সই করেছিলেন।” এদিকে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “পুরো সরকারটাই ফেক ছিল। আইএএস, আইপিএস সবাই ফেক।”


