কলকাতা: উইকএন্ড হোক বা দু-একদিনের ছুটি, ভ্রমণ-প্রাণ বাঙালির অন্যতম ডেস্টিনেশন বকখালি! কিন্তু এবার সেই বকখালিতেই হোটেলে (Bakkhali hotel fire safety) চেক-ইনের আগে ভেবে দেখতে হবে দশবার! সম্প্রতি তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ এবং নিউ মার্কেটের ‘শিখা ইনের’ আগুন চোখ খুলে দিয়েছে প্রশাসনের! দুটি ঘটনায় মোট ১৮ জনের মৃত্যুর পর রাজ্যের হোটেল-গেস্টহাউস ব্যবসার ফাঁকফোকর সকলের সামনে এসে গিয়েছে!
ইতিমধ্যেই একাধিক হোটেলে সারপ্রাইজ ভিজিট দিয়ে নোটিশ ধরানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সাফ জানিয়েছেন, কলকাতার বেনিয়ম দেখলেই যদি হোটেলে গেস্ট থাকে তাহলে দু-দিন সময় দেওয়া হবে! তারপরেই সিল করে দেওয়া হবে সেই হোটেলে। পাশাপাশি, পর্যটনকেন্দ্রগুলির হোটেল-গেস্টহাউসগুলোর নিরাপত্তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুরু হয়েছে অডিট।
বাঙালির অন্যতম প্রিয় বেড়ানোর ঠিকানার হোটেলগুলি আদৌ কতটা নিরাপদ? তারই উত্তর খুঁজতে মঙ্গলবার কড়া সারপ্রাইজ অভিযানে নামে প্রশাসন। কাকদ্বীপ মহকুমা প্রশাসন, দমকল বিভাগ, নামখানা ব্লক প্রশাসন এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ প্রতিনিধি দল বকখালির একাধিক প্রথম সারির আবাসিক হোটেলে আচমকাই পরিদর্শন চালায় (Bakkhali hotel fire safety)। খতিয়ে দেখা হয় ফায়ার সেফটি লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের কার্যকারিতা, জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা এবং রান্নাঘরের সামগ্রিক নিরাপত্তা।
তদন্তে একাধিক হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা বিধিতে গলদ ধরা পড়তেই প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলেই হোটেল মালিক ও স্থানীয় হোটেল অ্যাসোসিয়েশনকে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
১ মাসের ডেডলাইন, না মানলেই আইনি ব্যবস্থা
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিটি হোটেলকে ফায়ার সেফটি লাইসেন্স নবীকরণ করতে হবে (Bakkhali hotel fire safety)। পাশাপাশি সমস্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সচল ও কার্যকর রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
কাকদ্বীপের এসডিও শুভঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, “বেশ কিছু হোটেলে চ্যুতি-বিচ্যুতি পাওয়া গিয়েছে। সেই মতো হোটেলগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে, বকখালি হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুভাষ মাঝি জানান, “ফায়ার সেফটির বিষয়টি দ্রুত ঠিক করার কথা বলা হয়েছে। এজন্য প্রশাসন এক মাস সময় দিয়েছে।”


