Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: রাজধানীতে ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের বিক্ষোভ ঘিরে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই নতুন প্রজন্মের ভূমিকাকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তাঁর মতে, আগামী দিনের ভারত গড়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে তরুণদের হাতে। নিজেদের চিন্তাভাবনা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বড় স্বপ্ন দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রবিবার তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে (Chennai) একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তরুণদের উদ্দেশে কী বললেন মোদী?
চেন্নাইয়ের নন্দমবক্কমে জয়গোপাল গারোড়িয়া হিন্দু বিদ্যালয় ম্যাট্রিকুলেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের (Jaigopal Garodia Hindu Vidyalaya Matriculation Higher Secondary School) ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন মোদী। তিনি জানান, উন্নত ভারত গড়তে নতুন চিন্তা ও কার্যকর সমাধান প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মের সেই ভাবনাই দেশের পাশাপাশি গোটা বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
মহাকবি ভারতীয়ারের (Mahakavi Bharathiyar) নির্ভীকতার বার্তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী পড়ুয়াদের নিজেদের ভাবনা নিয়ে কাজ করতে, প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু ভাবতে এবং বড় লক্ষ্য স্থির করতে উৎসাহিত করেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতে সম্ভাবনা ও সুযোগের অভাব নেই। তাই এই সময়কে কাজে লাগানোই তরুণদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
দিল্লিতে CJP-র আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা
অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে প্রতিবাদ ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলে আন্দোলনে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party বা CJP)। শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke) এবং আরও দুই নেতাকে আটক করা হয়। পাশাপাশি বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করা এবং পরিবহণ পরিষেবায় বিধিনিষেধ জারির অভিযোগও সামনে এসেছে।
রবিবার পরিস্থিতি নিয়ে শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্পষ্ট করে, আইনসম্মত কারণ ছাড়া শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র প্রতিবাদকারীদের আটক করা যাবে না। রাজধানীতে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং মানুষের চলাচল নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
২০২৯-এর আগে রাজনৈতিক তাৎপর্য?
বেকারত্ব, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে তরুণদের অসন্তোষের প্রশ্ন রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসছে। এই আবহে মোদীর বক্তব্যকে Gen Z-র উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তরুণ ভোটারদের মনোভাব যে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তা বলাই যায়। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পিছনে নির্দিষ্ট নির্বাচনী উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না।


