Aaj lndia Desk ,কলকাতা: চোরবাগান পদপিষ্টের ঘটনা (Chorbagan Stampede) নিয়ে তদন্ত চলাকালীন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ধৃত ঘোষক কুশল মজুমদারের (Kushal Majumdar) ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। শুক্রবার তাঁর গ্রেফতারির পরেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক পোস্ট প্রকাশ্যে আসায় তৈরি হয়েছে কৌতূহল। পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় কে বা কারা পোস্টগুলি করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের একটি সূত্রের ধারণা, কুশলের পরিচিত কিংবা পরিবারের কোনও সদস্য এই পোস্টগুলি প্রকাশ করে থাকতে পারেন।
সপ্তমীর রাতে কী ঘটেছিল?
গত ১৭ অক্টোবর সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান পুজো মণ্ডপে ব্যাপক ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। সেই পরিস্থিতিতে মাইক থেকে ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই বার্তার জেরে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘোষণার নেপথ্যে কারা ছিলেন, তা জানতে তদন্তকারীরা দুই ঘোষককে চিহ্নিত করেন। বৃহস্পতিবার প্রথম জনকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার সকালে হেয়ার স্ট্রিট থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন কুশল মজুমদার।
ফেসবুকের চিঠিতে কী বার্তা?
কুশলের অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি হাতে লেখা চিঠিতে পুজোর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। সপ্তমীর রাতের দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুজো কমিটির সদস্যদের পক্ষ থেকেও দুঃখপ্রকাশ করেছেন তিনি।
ঘটনার দিনের বিবরণ দিতে গিয়ে কুশল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে গিরিশ পার্ক থানার (Girish Park Police Station) আধিকারিকরা ক্লাবে এসেছিলেন। পরে ক্লাবের সম্পাদকের ছেলে কবির তাঁকে মণ্ডপের পিছনের অংশ ভেঙে পড়ার খবর দেন। এরপর এক পুলিশ আধিকারিকের নির্দেশেই তাঁকে মাইকিং করতে হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্যই ঘোষণা, দাবি
কুশলের বক্তব্য, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে ঢুকতে নিষেধ করেছিলেন তিনি। একসঙ্গে অনেক মানুষ প্রবেশ করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন বলে তাঁর দাবি। ইচ্ছাকৃতভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্যের সত্যতা এবং দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তের ভিত্তিতেই সামনে আসবে।


