Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যের রাস্তার নাম বদল নতুন নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে একাধিক রাস্তা, স্টেশনের নাম বদল করা হয়েছিল। তবে এবার শুধু একটি সাইনবোর্ড বদলানো নয়, বরং ইতিহাসের স্মৃতিকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। একদিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্যের নামে দীর্ঘদিনের একটি রাস্তা, অন্যদিকে ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক বিতর্কিত চরিত্র। সেই দুই নামের মাঝখানেই দাঁড়িয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিল সোরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের (Suhrawardy Avenue) নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত।
কী বদল ঘটানো হয়েছে ?
পশ্চিমবঙ্গ দিবসে কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ সোরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের (Suhrawardy Avenue) নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশ এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক সংশোধন বলে দাবি করলেও, অন্য অংশের মতে এটি ইতিহাস ও নাগরিক স্মৃতির পুনর্বিন্যাসের প্রচেষ্টা।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা?
পার্ক সার্কাস এলাকার অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা সোরাবর্দি অ্যাভিনিউ (Suhrawardy Avenue)। পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট সংলগ্ন হওয়ায় শহরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
বিতর্কিত ইতিহাস হিসেবে অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহিদ সোরাবর্দির নাম তোলা হলেও কলকাতা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (সিআইটি) ১৯৩২ সালে বিশিষ্ট চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ স্যার হাসান সোরাবর্দির নামেই এই রাস্তার নামকরণ করেছিল। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। ১৯৪৬ সালের ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’-র সময় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হিংসার সঙ্গে হোসেন শহিদ সোরাবর্দির যোগ ছিল। তবে শিক্ষাবিদ স্যার হাসান সোরাবর্দির সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
কলকাতা পুরসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই সোরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের এবার নতুন নাম হবে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, গোপাল মুখার্জি, যিনি ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে পরিচিত ছিলেন, ১৯৪৬ সালের কলকাতা দাঙ্গার সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের রক্ষায় ভূমিকা নিয়েছিলেন। সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁর নামে রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
তবে এই সিদ্ধান্তের পর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। সমালোচকদের একাংশের মতে, শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নাম সরিয়ে অন্য ব্যক্তির নামে রাস্তার নামকরণ বিজেপির রাজনৈতিক চাল ছাড়া আর কিছুই নয়। তাঁদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ সাম্প্রদায়িকতাকে আরও উসকে দিতে পারে। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।


