Aaj India Desk, কলকাতা: বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে নজরদারি কতটা কড়া? ক্যাম্পাসে ঢুকছে কারা? পড়ুয়াদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোথাও ফাঁক থেকে যাচ্ছে কি না এবার সেই বিষয়েই নজর কলকাতা হাইকোর্টের। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ রাজ্যের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা এবং পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের মতো বিষয়ে কোনওরকম গাফিলতি বা আপসের জায়গা নেই বলেই আদালতের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
বহিরাগত প্রবেশ নিয়ে কেন এত গুরুত্ব?
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা আরও মজবুত করার দাবিতে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। সেই মামলার শুনানিতেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আদালত জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিরাপদ রাখা শুধু কোনও একটি পক্ষের দায়িত্ব নয়। সকলকেই নিজেদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে কিংবা সংলগ্ন এলাকায় যাতে কোনও ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করার উপরও জোর দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বের কথাও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
রাজ্যের হলফনামায় কী রয়েছে?
মামলার শুনানির মধ্যেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তবে রাজ্যের বক্তব্যেই আপাতত বিষয়টি শেষ হচ্ছে না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করতে হবে। কী ধরনের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মত কী, তা জানিয়ে বক্তব্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫ অক্টোবরের শুনানিতে কী হবে?
রাজ্যের জমা দেওয়া হলফনামা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির তরফে পেশ করা বক্তব্য আগামী ৫ অক্টোবর পরবর্তী শুনানিতে পর্যালোচনা করবে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।
অর্থাৎ, আগামী শুনানিতেই স্পষ্ট হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আদালতের পরবর্তী অবস্থান কী হতে চলেছে। আপাতত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টিই আদালতের নজরের কেন্দ্রে।


