Aaj India Desk, কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana)৩,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা নিয়ে রাজ্যের বহু মহিলার অপেক্ষা এখনও কাটেনি। কেউ ইতিমধ্যেই টাকা পেয়েছেন, আবার অনেকের আবেদন এখনও প্রক্রিয়াধীন। ফলে কোথাও সন্তোষ, কোথাও আবার ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে টাকা না-পাওয়া উপভোক্তাদের জন্য আশার বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।
‘সিস্টেমের সমস্যা’, দাবি শমীকের
রবিবার হাওড়ার একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শমীক। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছতে দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টিকে মূলত ‘সিস্টেমের সমস্যা’ বলে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অন্তর্ঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। আবার কোথাও কোথাও আবেদনপত্র পূরণের ক্ষেত্রেও গাফিলতি ছিল বলে দাবি করেন তিনি।তবে এই জটিলতার কারণে যোগ্য মহিলারা যাতে বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা জানান বিজেপি রাজ্য সভাপতি।
আরও ৫০ লক্ষ মহিলার জন্য বড় দাবি
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, আগামী দিনে আরও প্রায় ৫০ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে পারেন। তাঁর দাবি, যাঁরা প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য, তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বছরে ৩৬ হাজার টাকা কোনও ছোট অঙ্ক নয়। তাই প্রকল্পের সুবিধা কারা পাওয়ার উপযুক্ত, তা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই ঠিক করা প্রয়োজন।
২ কোটি আবেদন নিয়ে সময় লাগছে, বললেন অগ্নিমিত্রা
অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে একই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য প্রায় ২ কোটি মহিলা আবেদন করেছেন। এত বিপুল সংখ্যক আবেদন আপলোড ও প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় প্রয়োজন হচ্ছে। তাই যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করার অনুরোধ করেছেন তিনি।
যোগ্যদের টাকা মিলবে, আশ্বাস
অগ্নিমিত্রার দাবি, আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় কোথাও কোথাও অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। এর জেরে যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি জানান। তবে সবকিছু ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এখনও না-পাওয়া মহিলাদের ক্ষেত্রে আপাতত নতুন করে আবেদন করার কোনও কথা নয়; বরং আবেদন প্রক্রিয়া ও যাচাই শেষ হওয়ার অপেক্ষাতেই রয়েছে নজর।


